টানা এক সপ্তাহের অতি ভারী বর্ষণের পর কিছুটা স্তিমিত হয়েছে চট্টগ্রামের বৃষ্টির তীব্রতা। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আগের কয়েক দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে এখনো মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টির তীব্রতা কমলেও বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২১ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে টানা কয়েক দিন ধরে এই অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দৈনিক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রামের আকাশ অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। অধিকাংশ জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "মৌসুমি বায়ু এখনো সক্রিয় রয়েছে। এ কারণে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।"

গত ৪ জুলাই থেকে চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সাত দিনে মোট ১ হাজার ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যার দৈনিক গড় প্রায় ১৬৭ মিলিমিটার। সেই তুলনায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেক কম।

বৃষ্টির পরিমাণ কমলেও বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও অনেক এলাকা এখনো প্লাবিত হয়ে আছে। আবার কিছু এলাকায় নতুন করে পানি বেড়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় কয়েক লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগকবলিত এলাকায় ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।