দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলায় এখনো বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে গত দুই দিনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হ্রাস পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আজ শনিবার সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী, দেশের চারটি নদীর ছয়টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বান্দরবানে সাঙ্গু নদের বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্ট; সুনামগঞ্জের মারকুলি ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী; এছাড়া মৌলভীবাজারে মনু নদ এবং হবিগঞ্জে খোয়াই নদের বল্লা পয়েন্ট।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সেখানে বন্যা পরিস্থিতি খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। একই সময়ে ফেনী অঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।"

তবে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা নিয়ে তিনি জানান, "গত দুই দিনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি তুলনামূলক কম হয়েছে, যা পরিস্থিতির জন্য ইতিবাচক লক্ষণ। যদি আগামী সোমবার থেকে ভারী বৃষ্টি আরও কমে আসে, তাহলে ধীরে ধীরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।"

কেন্দ্রের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উজানে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১৩০ মিলিমিটার এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ ১৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটের জাফলংয়ে।

অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীর পানি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে সরদার উদয় রায়হান বলেন, "আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করার ঝুঁকি রয়েছে।"

তবে স্বস্তির খবর এই যে, দেশের প্রধান দুটি নদী গঙ্গা ও যমুনার পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে এবং বিশেষ করে যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে।

আজ সকাল ৯টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৭টিতে নদীর পানি বেড়েছে, ৬৪টিতে কমেছে এবং ৬টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা, সোমেশ্বরী, মুহুরী ও মাতামুহুরী নদীর কয়েকটি স্টেশনে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এসব নদীর পানি আরও বাড়লে স্থানীয়ভাবে বন্যা পরিস্থিতি আরও বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে।