নাটোর সদর উপজেলায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর জেরে শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার কাফুরিয়া ইউনিয়নের গাওপাড়া ও মাঝিপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতার বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা স্থানীয় বিএনপির সমর্থক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে গাওপাড়া ঢালান এলাকায় মহাসড়কে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী হঠাৎ একটি মিছিল বের করেন। এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। দুপুরের পর একদল উত্তেজিত ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে মাঝিপাড়া এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরহাদ বিন আজিজের বাড়ির ফটক ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। তারা বাড়ির প্রতিটি ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এরপর কাফুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী ও ইটভাটা মালিক নাজমুল হোসেনের বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, হামলার সময় পুরুষেরা পালিয়ে গেলেও নারী ও শিশুরা লাঞ্ছিত হয়েছেন।

খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল।

ক্ষতিগ্রস্তদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘যারা হামলা করিছে, তারা এলাকার লোকজন। সবাই বিএনপি করে। আমি বা এলাকার কোনো লোক আজ সকালের মিছিলে ছিলাম না। শুধু শুধু আমাদের ওপর এই অত্যাচার করা হলো। আমরা অসহায়।’

হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে কাফুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ভাঙচুর তেমন একটা হয়নি। ছাত্রলীগের ছেলেরা সকালে মিছিল করিছে। মিছিলে বহিরাগতদের সঙ্গে এলাকার ছাত্রলীগের ছেলেরা ছিল। বিকেলে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের লোকজন এলাকায় মিছিল করিছে। মিছিলের সময় কিছু ইটপাটকেল ছুড়তে পারে। তেমন কিছু হয়নি।’

ছাত্রলীগের মিছিলের বিষয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান জানান, রাজশাহী ও নাটোর জেলার সীমান্ত এলাকায় রাজশাহী থেকে আসা কিছু যুবক গাওপাড়া ঢালান এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে দ্রুত সটকে পড়েন। ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে পুলিশকে কিছু জানানো হয়নি। তবে অন্য সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।