দেশজুড়ে গত পাঁচ দিন ধরে চলা বৃষ্টির ধারা আজ শুক্রবারও অব্যাহত থাকতে পারে। এই প্রবল বর্ষণে দেশের অন্তত চারটি বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, আগামীকাল শনিবার এবং পরশু রোববার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি চলতে পারে। আজ রাজধানীতেও সারা দিন থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা আজ শুক্রবার সকালে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “প্রায় পাঁচ দিন ধরে দেশে বৃষ্টি চলছে। এর প্রাথমিক কারণ ছিল বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ। পরে সেই নিম্নচাপ অবশ্য চলে গেছে। এখন বৃষ্টি হচ্ছে মূলত মৌসুমি বায়ু বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণে।” তিনি আরও জানান, মৌসুমি বায়ুর এই সক্রিয়তার প্রভাব দেশের সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে এবং আজ সারা দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়ার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এলাকায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে ভারী বৃষ্টি এবং এর বেশি হলে অতি ভারী বৃষ্টি বলা হয়। গত চার দিনে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত) সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে, যার পরিমাণ ২১৪ মিলিমিটার। অন্যদিকে, আজ রাজধানীতে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক আজ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “পরিস্থিতি যা দেখা যাচ্ছে, তাতে আজও দেশের প্রায় সর্বত্রই বৃষ্টি থাকবে। কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে চারটি বিভাগ, অর্থাৎ খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হতে পারে।”

টানা বৃষ্টির ফলে চট্টগ্রামসহ ছয়টি জেলায় লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। চট্টগ্রাম নগরে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও শমসেরপাড়াসহ কিছু এলাকায় এখনো পানি জমে আছে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আবু জাফর মজুমদার জানিয়েছেন, রেলপথ থেকে পানি না কমায় আজ শুক্রবার পর্যন্ত কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া পাহাড়ধসের মাটি ও বন্যার পানিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসহ চারটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

সংসদে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী জানিয়েছেন, পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃষ্টির স্থায়িত্ব নিয়ে আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানান, এই বৃষ্টি আগামীকাল শনিবার এবং রোববারও থাকতে পারে। তিনি বলেন, “আগামীকাল পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হবে বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল। এখন দেখা যাচ্ছে রোববারও হতে পারে। ভারী না হলেও বৃষ্টির ধারা থাকতে পারে সোমবার পর্যন্ত।”

বন্যার ভয়াবহতা বর্ণনা করে এক ভুক্তভোগী বলেন, “চোখের সামনে ঘরটা ভেসে গেল, অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছি।”