সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম খানকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিলেটের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেকের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওসি সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে উপজেলার চোরাকারবারি এবং পাথর কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীদের সহযোগিতার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে তিনি এসব কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেন বলে স্থানীয় পর্যায়ে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

এই বিষয়ে জানতে ওসি সফিকুল ইসলাম খানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি, ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

তবে রাত সোয়া ১০টার দিকে যোগাযোগ করা হলে সিলেটের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "সফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।"

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অফিস আদেশে বলা হয়েছে সফিকুল ইসলামের সংযুক্তিকরণের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে ওই থানায় এখন পর্যন্ত নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল মুক্তকণ্ঠের প্রথম পৃষ্ঠায় ‘সবুজ টিলা এখন অনেকটা কঙ্কালসার’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বরাতে জানানো হয়, কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন ও পাচারে ওসি সফিকুল ইসলাম খানের সহযোগিতা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতি সপ্তাহে একদিন রাতের বেলা ‘ওসির লাইন’ নাম দিয়ে টিলা এলাকা থেকে পাথর ভোলাগঞ্জে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পাথর ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষ ব্যক্তিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ‘ম্যানেজ’ করে এই লাইন পরিচালনা করেন।