রাজধানীর তেজগাঁওয়ে দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আরও এক আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে (৩২) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি-র সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের এসআই মো. জহিরুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানির সময় তিনি আদালতকে জানান, "এই আসামির ফেসবুক পোস্ট পর্যালোচনা এবং পূর্বের আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা গেছে। এই ঘটনায় আরও কারা জড়িত রয়েছে, তা শনাক্ত এবং লুটপাটকৃত মালামাল উদ্ধারের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।"
অন্যদিকে, রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসাইন আদালতকে বলেন, "আসামি একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার কাজেই তিনি ওই দিন কারওয়ান বাজার গিয়েছিলেন। ওই দিন হাদির মৃত্যুকে ঘিরে একটা ‘মব’ সৃষ্টি হয়। মুক্তকণ্ঠ ও ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে অনেকেই লেখালেখি করেছে। তাদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। লুটপাট, আগুন বা ভাঙচুরের সঙ্গেও জড়িত না।"
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মুক্তকণ্ঠকে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাস্থলে তাঁর উপস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে তাঁর চেহারার মিল পাওয়া গেছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত দুই দিনের মেয়াদ মঞ্জুর করেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাইফুল ইসলামের ফেসবুক পোস্ট এবং আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের তথ্য পর্যালোচনা করে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত ৬ জুলাই রাতে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত আজকের দিন ধার্য করেন।
আবেদনে আরও জানানো হয়, ঘটনার দিন রাত ১১টা ১৫ মিনিটে আসামি সংঘবদ্ধভাবে কারওয়ান বাজারে মুক্তকণ্ঠ অফিসে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেন। এরপর ডেইলি স্টারে হামলার জন্য উসকানিমূলক পোস্ট করেন এবং রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে ওই কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালান। পুলিশ আদালতে জানায়, তাঁর কাছ থেকে একটি আইফোন এবং হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি স্ক্রিনশট জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ৩২ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম এসকেএম লেদার লিমিটেডের মালিক। গত ৬ জুলাই ডিবির একটি দল কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায় তাঁর বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর এক সমন্বিত হামলায় প্রথমে মুক্তকণ্ঠ এবং পরবর্তীতে দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশের অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে।






