কিশোরগঞ্জের নিকলী থানা-হাজত থেকে রুবেল মিয়া (২১) নামের এক আসামির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাজতের কার্নিশের রডে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।

নিহত রুবেল মিয়া নিকলী উপজেলার শহরমূল গ্রামের রাজা হাওলাদারের একমাত্র ছেলে। মাদকাসক্ত হয়ে বাবার ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে হাজতে রেখেছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকাল আটটার দিকে তাঁকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি নিজের শার্ট দিয়ে কার্নিশের রডে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

নিজের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকাহত বাবা রাজা হাওলাদার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "একমাত্র ছেলে রুবেল খুবই আদরের ছিল। কিন্তু অল্প বয়সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তিনি ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই মামলায় সে তিন মাস কারাভোগ করেছে। তবু ছেলে সংশোধন হয়নি। যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে আজ সকালে নিজেই থানায় ফোন করে ছেলেকে পুলিশে দেন। সকাল ৯টার দিকে হাজতে গিয়ে ছেলেকে নাশতাও করিয়ে আসেন। বাড়ি ফেরার পর ফোনে জানতে পারেন, ছেলে আত্মহত্যা করেছে।"

ঘটনা প্রসঙ্গে নিকলী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমজাদ হোসেন জানান, সকালে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে হাজতে রাখা হলে তাঁর বাবা এসে নাশতা দিয়ে যান। তখন রুবেল বাবাকে আর নির্যাতন করবেন না বলে জানালেও বাবা তা বিশ্বাস করেননি। বেলা সোয়া ১১টার দিকে রুবেলকে হাজতে সুস্থ অবস্থায় দেখা গিয়েছিল এবং তখন তিনি একাই ছিলেন। পুলিশ যখন তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই তিনি পরনের শার্ট খুলে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানান এএসআই আমজাদ হোসেন।

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "বাবার করা একটি সিআর মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি ছিলেন রুবেল। বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাজতে আনা হয়েছিল। পরে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ আদালতে চালান দিতে হাজত থেকে বের করতে গিয়ে দেখেন, পরনের শার্ট খুলে কার্নিশের রডে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।"