সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে নদী ও হাওরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্প মেয়াদে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাওরে পর্যটকদের নিরাপদ পরিবহনের লক্ষ্যে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সুনামগঞ্জ জেলা এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জি এলাকায় অতি বৃষ্টির ফলে সুরমা নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে জেলার হাওরাঞ্চল ও নদীপথে নৌযান চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। এ অবস্থায় পর্যটকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত জেলার সব হাউসবোটের মালিক, চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাতটি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
জেলা প্রশাসনের দেওয়া নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টি, দমকা হাওয়া বা নদীতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করলে কোনো অবস্থাতেই পর্যটক নিয়ে যাত্রা করা যাবে না। প্রতিটি হাউসবোটে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী পর্যাপ্তসংখ্যক মানসম্মত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং এবং অন্যান্য জরুরি নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বহন সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হাওরে যাত্রা শুরুর আগে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বা স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে হাউসবোট পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলে সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে।
উল্লেখ্য, বর্ষা মৌসুমে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসেন। তাঁরা নৌকায় রাত যাপন করেন এবং টাঙ্গুয়ার হাওরের পাশাপাশি নিলাদ্রী লেক, লাকমা ছড়া, বারিকটিলা, যাদুকাটা নদী ও শিমুলবাগান ভ্রমণ করেন।
বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনের একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে এবং উপজেলা পর্যায়ে আশ্রয়কেন্দ্রের তালিকা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মেহেদী হাসান হৃদয় জানান, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার জন্য উপজেলাগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জে বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই মৌসুমে এক দিনে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর বিভাগ-২) এমদাদুল হক বলেন, যেহেতু সুনামগঞ্জে ও উজানে আরও দুই দিন ভারী বৃষ্টির পূর্ভাবাস আছে, তাই পানি আরও বাড়বে। এতে জেলায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।






