ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মাদকাসক্ত দুই ছেলের বেপরোয়া আচরণ ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁদের আইনের হাতে তুলে দিয়েছেন এক অসহায় মা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দুই ছেলেকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন তিনি। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই ভাইকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সরাইল উপজেলা সদরের একটি গ্রামের বাসিন্দা আবুল ইমন (৩০) ও আবুল আজাদ (২৪)। ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশের পর পুলিশ তাঁদের কারাগারে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী একজন সরকারি চাকরিজীবী। তাঁর তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে বড় দুই ছেলে বেশ কয়েক বছর ধরে মাদকাসক্ত। মাদকের অর্থের জোগান দিতে তাঁরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। সন্তানদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে বাবা-মা দীর্ঘ সময় চেষ্টা করলেও কোনো সুফল পাননি। বরং ছেলেদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দেড় বছর আগে তাঁদের বাবা পরিবার ছেড়ে অন্যত্র চলে যান।
সম্প্রতি দুই ভাইয়ের মাদকাসক্তি ও সহিংসতা আরও বৃদ্ধি পায়। টাকার জন্য তাঁরা প্রায়ই মাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার সকালে মায়ের কাছে ১৩ হাজার টাকা দাবি করেন তাঁরা। মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুই ভাই ঘরের আসবাব ভাঙচুর শুরু করেন এবং মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। নিরুপায় হয়ে প্রতিবেশীদের ডাকলে তাঁরা এসে দুই ভাইকে আটকে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এবং দুই ভাইকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই মা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আমার দুই ছেলে আমার সব শেষ করে দিয়েছে। ওদের অত্যাচারে আমার স্বামীও বাড়িতে থাকে না। ওদের অত্যাচারে আমি অসুস্থ হয়ে গেছি। আমি শান্তি চাই। ওদের অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউএনও সাইফুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “মাদকাসক্ত দুই ভাইয়ের অত্যাচারে পরিবারটি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। আজ তাঁদের হাতেনাতে মাদকাসক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁরা দোষ স্বীকার করেছেন। তাঁদের ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ভাইকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।






