চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আকস্মিক বন্যার প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ৫৫ বছর বয়সী ছেনোয়ারা বেগম। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নে বন্যার পানির তোড়ে তাঁর বসতঘরটি ভেসে যায়। বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ছেনোয়ারা বেগম বলেন, ‘স্বামী–সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পানির স্রোত এসে টিনের ঘরে ধাক্কা দেয়। বিপদ টের পেয়ে দ্রুত ঘর থেকে স্বামী–সন্তান নিয়ে বের হয়েছি। এরপর চোখের সামনে ঘরটা ভেসে গেল। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছি।’
ছেনোয়ারা বেগমের স্বামী শাহ আলম স্থানীয় বাজারের একজন নিরাপত্তারক্ষী। তাঁদের চার মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বর্তমানে ছোট মেয়ে মনি আকতারকে নিয়ে তাঁদের সংসার। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মনির বই-খাতাও বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।
নিদারুণ কষ্টের মাঝেও প্রাণে বেঁচে ফেরায় স্বস্তি প্রকাশ করে ছেনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমাদের ঘর চলে গেছে দুঃখ নেই। আল্লায় চাইলে করতে পারব। কিন্তু একটু এদিক–ওদিক হলেই পরিবারের সবাই পানিতে ভেসে যেতাম।’
বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেচুরিয়া এলাকার এস কে বি কনভেনশন হল আশ্রয়কেন্দ্রে ছেনোয়ারার মতো আরও ৫৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করায় অনেকেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। তবে ঘর হারিয়ে ছেনোয়ারা এখনো আশ্রয়কেন্দ্রেই রয়ে গেছেন।
আশ্রয়কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা কুহেলিকা সরকার জানান, ‘এখানে ৫০ থেকে ৫৫ পরিবারের অন্তত ২০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। আমরা রাতে ও আজকে তাঁদের শুকনো খাবার বিতরণ করেছি।’
স্থানীয় বৈলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিকাশ দত্ত জানান, ইউনিয়নের জন্য এক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের জন্য শুকনো খাবারের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার দুপুরে খিচুড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সার্বিক ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, বুধবার ইউনিয়নগুলোতে সাড়ে ২৪ টন চাল পাঠানো হয়েছে। এ বরাদ্দ আরও বাড়বে। জরুরি মুহূর্তে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে শুকনো খাবার পাঠানো হচ্ছে।






