বাংলাদেশে হঠাৎ করে বিভিন্ন জায়গায় সাদা কাপড়ে কালেমাখচিত পতাকা দেখা যাওয়ার প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, এটি একটি কন্সপিরেসি (ষড়যন্ত্র) এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, এ ধরনের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি এ সভার আয়োজন করে। আসাদুজ্জামান ছিলেন সমাপনী বক্তা।

সভায় তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের অর্জন হচ্ছে, এখন আমরা সেই ব্যবস্থার মধ্যে আছি, যেখানে সবাই কথা বলতে পারে, সবার কথা শোনা হয়, শুনতে হয়। এটিই হচ্ছে গণতন্ত্র। জুলাইয়ের অর্জনকে সংহত করতে হবে।’

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সাম্প্রতিক ঘোষণার বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উনি মিথ্যা কথা বলছেন, উনি আর আসতে পারছেন না। কেন পারছেন না? ওনার হাতে এখন রক্তের দাগ, মানুষ খুনের অভিযোগ ওনার ওপরে আছে। উনি বাংলাদেশকে ধ্বংস করেছেন, লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছেন।’

শেখ হাসিনার অনুশোচনা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওনাকে বাংলাদেশের রাজনীতি, বাংলাদেশের জনগণ আর কখনোই গ্রহণ করবে না। এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি। তবে শুধু নিশ্চিত থাকলেই চলবে না। জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ কিন্তু শুধুই আওয়ামী লীগ বা বাকশাল নয়। ফ্যাসিবাদ একটা লক্ষণ, সিনড্রোম। এটার বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও সক্রিয় থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। আমাদের সেনাবাহিনী, পুলিশ, আমলাতন্ত্রকে পুনর্গঠন করতে হবে। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে রিপ্রিন্ট করতে হবে (গড়ে তুলতে হবে)।’

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশে হঠাৎ করে সাদা কাপড়ে কালেমাখচিত পতাকা বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে। এটা একটা কন্সপিরেসি। কিছুদিন আগে বম্ব ব্লাস্টের (বোমা বিস্ফোরণ) ঘটনা ঘটেছে এই পতাকা নিয়ে, মিছিলের ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ‘এটা হচ্ছে শেখ হাসিনার জঙ্গি নাটক। তারা এগুলো তৈরি করত তাদের অপশাসনকে পাকাপোক্ত করার জন্য। সারা পৃথিবীকে দেখাতে চাইত বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে, সুতরাং এই জঙ্গিবাদকে মোকাবিলা করার জন্য “আমি ক্রসফায়ারসহ মাঝেমধ্যে যা করি; আমার সরকার এবং আমাকেই তোমরা রাখো, আমাকে তোমরা সমর্থন করো”।’

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এখন উনি (শেখ হাসিনা) যে বলছেন উনি আসবেন বাংলাদেশে। বাংলাদেশের ইমপ্রেশনটা...। উনি আবার বলতেছেন, “দেখো, আমি নাই, এখন আবার কিন্তু জঙ্গিবাদ উঁকি দিচ্ছে, নাড়া দিচ্ছে”। এ ধরনের একটা পরিস্থিতি তারা তৈরি করতে চায়। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এটা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র। আমাদের দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে যারা অবহেলা করতে চায়, আন্ডারমাইন করতে চায়; যারা আমাদের সরকার ও দেশকে চাপের মধ্যে রাখতে চায়, স্পষ্টভাবে আমি বলতে চাই এটা তাদের কন্সপিরেসি। এই কন্সপিরেসির ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

১১-দলীয় ইস্যুতে শফিকুর রহমানের বক্তব্য নিয়েও মন্তব্য করেন আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ষড়যন্ত্র’ করে ১১-দলীয় ঐক্যকে হারানো হয়েছে বলে গতকাল সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান যে অভিযোগ করেছেন, সেটি নিয়েও কথা বলেছেন বিএনপির এই নেতা। জামায়াতের আমিরের বক্তব্যকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই কথা তো শেখ হাসিনাও বলতেন। যখন ইলেকশনে তিনি হারতেন, তখন তিনি সূক্ষ্ম কারচুপিসহ নানা কথা বলতেন।’

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। এতে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন।