অনেকেই ভাবেন, তরুণ থাকার রহস্য কেবল ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক, বিলাসবহুল জিম কিংবা কঠোর ডায়েটেই লুকিয়ে আছে। বাস্তবতা ভিন্ন। বছরের পর বছর জেনিফার লোপেজ নিজের মতো করে কিছু নিয়ম মানছেন। অর্থাৎ অভ্যাসে পরিণত করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, এসব সহজ অভ্যাস চাইলে আপনিও রপ্ত ও চর্চা করতে পারবেন। চলুন দেখি, যে পাঁচ অভ্যাস আয়ত্তে এনে তারুণ্য ধরে রেখেছেন জেনিফার লোপেজ।
.কেউ তাঁকে দেখেন পপ আইকন হিসেবে, কেউ অভিনেত্রী, কেউ আবার নৃত্যশিল্পী হিসেবে। যে বিশেষণই জুড়ে দিন না কেন, জেনিফার লোপেজ বারবার আলোচনায় উঠে আসেন প্রাণবন্ত উপস্থিতির কারণে।
.৫৬ বছর বয়সেও মঞ্চে টানা পারফরম্যান্স, রেড কার্পেটে আভিজাত্য কিংবা ক্যামেরার সামনে অদম্য আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে বয়সটাকে যেন একটা জায়গায় আটকে রেখেছেন। কীভাবে পারেন?
.অনেকেই মনে করেন, সুস্থ থাকতে হলে সপ্তাহের সাত দিনই জিমে যেতে হবে বা বাসায় বসে করতে হবে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ। আদতে তা নয়।
জেনিফার লোপেজ সপ্তাহে চার দিন নিয়ম করে শরীরচর্চা করেন। তবে ব্যস্ততা থাকলেও এই নিয়মিত রুটিন থেকে তিনি সরে যান না।
.সুস্থ থাকতে আপনিও নিজের সময় অনুযায়ী সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন ব্যায়াম করতে পারেন।
হয়তো দুই সপ্তাহ টানা ব্যায়াম করলেন, তৃতীয় সপ্তাহেই পুরোপুরি বাদ। এতে লাভ হওয়ার চেয়ে ক্ষতির পাল্লাই হয় ভারী। তাই ব্যায়ামের ক্ষেত্রে প্রতিদিন নিখুঁত হওয়ার চেয়ে নিয়মিত হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
.৭০ বছর বয়সে ফিট থাকতে চান? তাহলে ৩০ থেকেই এই অভ্যাসগুলো করুন.সুস্থ শরীরের যাত্রা শুরু হয় খাবারের প্লেট থেকেই। জেনিফারের খাদ্যতালিকায় থাকে প্রচুর সবজি, মানসম্মত প্রোটিন—সব মিলিয়ে পুষ্টিকর খাবার।
এমন কোনো ডায়েট রুটিন মেনে চলেন না, যা কয়েক দিনের জন্য অনুসরণ করা যায়, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে টেকে না।
তাই প্রতিদিনের খাবারে একটু বেশি সবজি, পর্যাপ্ত প্রোটিন আর কম প্রক্রিয়াজাত খাবার রাখার অভ্যাসই হতে পারে আপনার বড় পরিবর্তনের শুরু।
.জেনিফারের কাছে ব্যায়াম মানেই শুধু জিম নয়; নাচ যেমন তাঁর কাজ, আবার ফিট থাকার অন্যতম উপায়ও বটে। এতে শরীর যেমন সচল থাকে, তেমনি মনও থাকে প্রাণবন্ত।
আপনারও যদি ট্রেডমিলে হাঁটতে একঘেয়ে লাগে, তাহলে সাইকেল চালান, সাঁতার কাটুন, দ্রুত হাঁটুন; পারলে নাচুন। যে ব্যায়াম আপনাকে আনন্দ দেয়, সেটিই সবচেয়ে বেশি দিন ধরে চালিয়ে যেতে পারবেন।
.সারা দিন কাজের পর রাত জেগে সিরিজ দেখা বা ফোন স্ক্রল করা আমাদের অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু ফিটনেসের ক্ষেত্রে ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। জেনিফার প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। কারণ, বিশ্রামই শরীরকে নতুন দিনের জন্য প্রস্তুত করে।
.জেনিফারের মতে, ৯-১০ ঘণ্টা ঘুমাতে পারলে বরং ভালো হয়, তবে একেবারেই না হলে অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের জন্য খুব প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, একেকজনের জন্য ঘুমের সময় একেক রকম।
অর্থাৎ আপনিই বুঝবেন, আপনার ঠিক কতক্ষণ ঘুম প্রয়োজন। সুস্থ ত্বক, এনার্জি আর সতেজ অনুভূতির জন্য নিয়মিত ঘুম আপনার বিউটি রুটিনেরও অংশ হতে পারে।
.৪১ বছর বয়সেও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কীভাবে ফিট আছেন? জানালেন তাঁর শেফ.ফিটনেস বজায় রাখতে শুধু কী করছেন, তা নয়; কী এড়িয়ে চলছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। জেনিফার লোপেজ নিজের স্বাস্থ্যসচেতনতায় বাদ দিয়েছেন ধূমপান। অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত ক্যাফেইনও এড়িয়ে চলেন।
ছোট ছোট এই সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘ মেয়াদে তাঁর শরীর ও ত্বক দুটোর ওপরই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন তিনি।
.সব পরিবর্তন এক দিনে আনতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। তবে দৈনন্দিন জীবনে একটি ভালো অভ্যাস যোগ করা বা একটি খারাপ অভ্যাস বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তই হতে পারে সুস্থ জীবনের প্রথম ধাপ।
মনে রাখবেন, ফিট থাকার কোনো শর্টকাট নেই। তবে নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম আর সচেতন জীবনযাপন—এই কয়েকটি অভ্যাস যদি জেনিফার লোপেজকে ৫৬ বছরেও প্রাণবন্ত রাখতে পারে, তাহলে আপনার সুস্থ জীবনযাত্রার পথেও এসব হতে পারে নির্ভরযোগ্য উপায়।
সূত্র: এমএসএন
.৪৯ বছর বয়সেও দারুণ ফিট শাকিরা, রহস্যটা জানালেন তাঁর দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষক





