অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিজঅর্ডার এমন এক সমস্যা, যেখানে মানসিক চাপে পড়লে মনের দখল নেয় নেতিবাচক চিন্তা। আবেগ সামলাতে না পারা ও আচরণগত পরিবর্তন হলো এই ডিজঅর্ডারের বৈশিষ্ট্য। অনেক ক্ষেত্রে এ সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে যায় সব আনন্দ।

পরিবার বা কাজের জায়গায় বোঝাপড়ার অভাব, একাকিত্ব, বড় ধরনের রোগবালাই—এমন নান কারণে মানসিক চাপে পড়তে পারেন যে কেউ। সাধারণত কিছুদিনের মধ্যেই জীবনের এসব চ্যালেঞ্জ সামলে নেন মানুষ। তবে অনেকের পক্ষে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিজঅর্ডারে ভোগেন তাঁরা।এ জন্য দায়ী হতে পারে জিনগত কারণ বা জীবনের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা। জীবনের নানা ক্ষেত্রেই নেতিবাচক পরিস্থিতির শিকার হতে হয় বহু মানুষকে। যেমন—

স্কুলে বুলিংয়ের শিকার।

দাম্পত্য বা প্রেমের সম্পর্কে বোঝাপড়ার অভাব কিংবা অত্যাচারের শিকার হওয়া

আর্থিক অনটন।

কর্মক্ষেত্রে জটিলতা।

শারীরিকভাবে আহত হওয়া।

অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিজঅর্ডার থাকলে এ ধরনের ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব জীবনে রয়ে যায় দীর্ঘ সময়। সেই প্রভাবে নিজেরই আচরণের কারণেও নিজেই দুশ্চিন্তা বা হতাশায় ভুগতে পারেন।

মানসিক চাপে পড়ার কারণ ঘটার তিন মাসের মধ্যে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়:

মন খারাপ হয়ে থাকা, সহজেই নিরাশ হয়ে পড়া।

আগে ভালো লাগতো এমন কাজেও উৎসাহ না পাওয়া, এমনকি দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে।

প্রায়ই কান্নাকাটি করা।

দুশ্চিন্তা বা চাপগ্রস্ত হয়ে থাকা।

অস্থিরতা, চাপা ভয়।

মাত্রারিক্ত বিরক্তি।

খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া।

ঘুমের ব্যাঘাত।

মনোযোগের অভাব।

কাছের মানুষদের থেকে দূরে সরে যাওয়া।

আত্মহত্যার চিন্তা বা চেষ্টা।

যদি এমন সমস্যায় ভুগছেন বলে মনে করেন, আপনার প্রথম কাজ হবে নিজের মনকে শান্ত রাখা। নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করুন। ইতিবাচক কিছু ভাবতে চেষ্টা করুন। জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তুলতে চেষ্টা করুন।অসহায়দের পাশে দাঁড়ান। নিজেকে সামলে নিতে একটু বেশি উদ্যোগী হয়ে উঠুন। বিশ্বস্ত, কাছের মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন নিজের কষ্ট। ভুলে যাবেন না, জীবনে খারাপ কিছু ঘটে গেলেও জীবন আদতে ভীষণ সুন্দর ও অমূল্য এক উপহার। প্রয়োজনে পেশাদারের সহযোগিতা নিন।অন্যদিকে কাছের মানুষদের কারও মধ্যে যদি এ ধরনের সমস্যা দেখেন, তাঁর সাহায্যে এগিয়ে যান। শিশুদের আচরণের প্রতিও খেয়াল রাখুন। তাকেও সাহায্য করুন। আক্রান্ত ব্যক্তি অনেক সময় না-ও বুঝতে পারেন যে তাঁর পেশাগত সাহায্য প্রয়োজন। কাছের মানুষের ক্ষেত্রে এমন হলে তাঁকে বিষয়টা বোঝানোও আপনার দায়িত্ব।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক