আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, ক্রসফায়ার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৩ হাজার ২৯৯ জন নিহতের ঘটনায় ন্যায়বিচার দাবি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনটি আলাদা আবেদন জমা দিয়েছে বিএনপি। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামকে এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছে দলটি।
আজ সোমবার বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহ উদ্দিন খান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের কাছে এই আবেদনগুলো সোপর্দ করেন। তিনি দলের মামলা, গুম, খুন ও তথ্য সংরক্ষক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। আবেদনের সঙ্গে ঘটনাসমূহের প্রয়োজনীয় নথিপত্রও পুনরায় দাখিল করা হয়েছে।
বিএনপির অভিযোগ, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের কাছে এসব অভিযোগ জানানো হলেও তিনি ভুক্তভোগীদের বিচারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
প্রথম আবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ২৭৬ জনকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৭৬ জন বিএনপি ও এর সংগঠনের নেতা-কর্মী। এসব হত্যার বিচারের জন্য গত বছরের ৮ জানুয়ারি চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল। তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও মামলায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। একাধিকবার তাগাদ দিলেও কোনো পদক্ষেপ হয়নি। ন্যায়বিচারের জন্য অপরাধীদের শাস্তি নিতে বর্তমান চিফ প্রসিকিউটরকে আবার অনুরোধ করেছে বিএনপি।
দ্বিতীয় আবেদনে উল্লেখ, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৭৫ জন গুমের ঘটনায় বিচার চেয়ে গত বছরের ২৪ আগস্ট আবেদন করা হয়। সেখানে ভুক্তভোগীদের নাম ও তথ্য দেওয়া হয়েছে। সালাহ উদ্দিন খান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যায়বিচার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার দাবিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিড় করছে। দলের চেয়ারম্যানও বিচার নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে গুমের শিকারদের নথি পুনরায় ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনীর গুলিতে ৮৪৮ জন শহীদ। এর মধ্যে ছাত্রদলের ১৫৩ জন এবং বিএনপি ও সংগঠনের ৩৭৩ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক। এই হত্যার বিচার চেয়ে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শহীদদের আত্মীয়রা ক্ষুব্ধ। দ্রুত ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচারের জন্য বর্তমান চিফ প্রসিকিউটরকে পুনরায় অনুরোধ করা হয়েছে।






