খোলামেলা বড় ঘর সবারই পছন্দ। কিন্তু আজকাল অন্দরমহলে জায়গার তীব্র সংকোচন ঘটেছে। তবে ছোট ঘরকে তুলনামূলকভাবে বড় দেখানো খুব একটা কঠিন নয়। অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই এটি সম্ভব। এ বিষয়ে সৃষ্টি আর্কিটেকচার অ্যান্ড কনসালট্যান্সির প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি তাসনিম তূর্যির সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম।
ছোট ঘরের জন্য উজ্জ্বল সাদা (ব্রিলিয়ান্ট হোয়াইট), চাপা সাদা, ধূসর বা বেইজের মতো হালকা রং বেছে নিন। প্যাস্টেল শেডের মৃদু রঙগুলোও উপযোগী। তবে যেকোনো রংই বেছে নিন, সেই একটি রঙের টোনই ধরে রাখুন।
হালকা রঙের সঙ্গে উজ্জ্বল রঙ মিশিয়ে কন্ট্রাস্ট তৈরি করলে রঙের সমন্বয় নষ্ট হয় এবং ঘর ছোট দেখায়। একাধিক রঙ ব্যবহার করলেও ঘর ছোটই মনে হয়। ঘর রং করার সময় এসব বিষয় মনে রাখলে পরে সমস্যা হয় না।
ঘর রং করার পরেও আরও কিছু সহজ উপায় আছে। দিনের বেলা জানালা দিয়ে প্রাকৃতিক আলো ঢুকতে দিন। পাতলা পর্দা লাগিয়ে রাখুন। এতে কোমল আলোয় ঘর প্রশান্তিময় হয়ে ওঠে।
রাতে উষ্ণ আলোর ব্যবস্থা করুন। আলোর উৎস একাধিক স্তরে সাজান। আসবাবের পেছন বা দেয়ালের কোণ থেকে আলো আসার ব্যবস্থা করুন। ল্যাম্পও ব্যবহার করতে পারেন।
আসবাব এমনভাবে সাজান যাতে হাঁটাচলার জন্য যথেষ্ট জায়গা থাকে। মেঝের যত বেশি অংশ খালি রাখবেন, ঘর তত বড় দেখাবে।
অতিরিক্ত আসবাব থাকলে বিক্রি করে দিন। বরং একই আসবাবে একাধিক কাজ হয় এমন জিনিস কিনুন। সোফা কাম বেড, স্টোরেজ বেড, ফোল্ডিং টেবিল ছোট ঘরের জন্য আদর্শ। ছাদ পর্যন্ত দেয়াল ক্যাবিনেট বানান। টেবিলের অংশ খুলে পড়ার টেবিল বা পুরোটা খুলে খাবার টেবিল ব্যবহার করুন।
ছোট ঘরে কম জিনিস রাখুন এবং সবকিছু গুছিয়ে সাজান। অপ্রয়োজনীয় জিনিস অন্যকে দিয়ে দিন। প্রয়োজনীয় জিনিস ছোট বাক্সে পরিপাটি করে রাখুন। এতে ছিমছাম ঘর স্বস্তিদায়ক হয়।
বড় আয়না ব্যবহার করলে আলোর প্রতিফলনে ঘর খোলামেলা দেখায়। কয়েকটা গাছ রাখলে প্রশান্তি বাড়ে। ডিফিউজার দিয়ে সুগন্ধ ছড়ান। প্রযুক্তির সাহায্যে শান্তিদায়ক শব্দের ব্যবস্থা করুন।






