বিশ্বব্যাপী কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম কারণ হলো লুপাস বা এসএলই। লুপাসে আক্রান্তদের ৫০ শতাংশ জীবনে কোনো না কোনো সময় কিডনিজনিত জটিলতায় ভোগেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রে কিডনি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে ডায়ালাইসিস করতে হয়। লুপাসের কারণে কিডনিতে প্রদাহ দেখা দিলে তাকে লুপাস নেফ্রাইটিস বলা হয়। আজ ১০ মে বিশ্ব লুপাস দিবস।
লুপাস একটি অটোইমিউন রোগ। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিজেরই কোষ ও অঙ্গকে ভুলভাবে আক্রমণ করে ক্ষতি করে। মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত যেকোনো অংশ এর শিকার হতে পারে। এই রোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় অল্পবয়সী মেয়েদের মধ্যে, তবে যেকোনো বয়সের লোক বা ছেলেদেরও হতে পারে।
কীভাবে বুঝবেন
লুপাস রোগীদের কিডনি আক্রান্ত হওয়ার প্রথম দিকে প্রায় কোনো লক্ষণই নাও দেখা দিতে পারে। এটি নিয়মিত পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে। লুপাসে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রস্রাবে ফেনা দেখা, প্রস্রাবের রঙ বদলানো, মুখ-চোখ ফোলা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, নিয়ন্ত্রণের বাইরে উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি দেখলে তাৎক্ষণিক কিডনির পরীক্ষা করা জরুরি।
লুপাসে আক্রান্ত ৫০% রোগী জীবনে কখনো না কখনো কিডনিজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হন।
কোন পরীক্ষায় শনাক্ত হয়
প্রস্রাব পরীক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রুটিন প্রস্রাব পরীক্ষায় প্রস্রাবে প্রোটিন, রক্তকণিকা, কাস্ট পাওয়া যায়। প্রস্রাবে মোট প্রোটিনের পরিমাণও মাপা হয়। কিডনির কার্যক্ষমতা জানতে ক্রিয়েটিনিন বা জিএফআর পরীক্ষা সহায়ক। কিডনির কাজ সাময়িক বা স্থায়ীভাবে কমলে ক্রিয়েটিনিন বাড়ে। এছাড়া সি৩, সি৪ বা অ্যান্টি ডিএস ডিএনএ টেস্টগুলো সাহায্য করে। লুপাস নেফ্রাইটিস নির্ণয়ে কিডনি টিস্যু বায়োপসি গুরুত্বপূর্ণ। এর রিপোর্ট অনুযায়ী রোগকে ১ থেকে ৬ ধাপে ভাগ করা হয় এবং চিকিৎসার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিকিৎসা কী
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লুপাস নেফ্রাইটিসের চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এর চিকিৎসায় উচ্চ ডোজের স্টেরয়েড এবং ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।
কোনো চিকিৎসাই লুপাস নেফ্রাইটিসে ১০০% কার্যকর নয়। ওষুধ শুরুর পর ধাপে ধাপে স্টেরয়েডের ডোজ কমাতে হয়, অন্য ওষুধের মাত্রা ঠিক করতে হয়। এসব ওষুধের বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকায় নিয়মিত ফলো-আপ জরুরি।
অধ্যাপক ডা. রওশন আরা, মেডিসিন ও বাতরোগ বিশেষজ্ঞ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ






