জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকার গণভোটের রায় ও জনগণের মতামত উপেক্ষা করে বৈষম্যমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এই সময় তিনি এসব অভিযোগ তোলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নির্বাচনের আগে তারা “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং ভোটও দিয়েছেন। এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও গণভোটের রায় মানছেন না। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে ৭০ ভাগ জনমতকে উপেক্ষা করছে। উন্নয়ন কার্যক্রমেও আঞ্চলিক ও দলীয় প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।’

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মতামত দেন, একটি এলাকাতেই একসঙ্গে সিটি করপোরেশন, নতুন উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু সার্বিক গুরুত্বের ভিত্তিতে এসব উন্নয়ন ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বিরোধিতা করি না; বরং উৎসাহিত করি। তবে উন্নয়নের ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতা বা সরকারদলীয় এমপিকে প্রাধান্য দেওয়াকে গ্রহণযোগ্য মনে করি না। ন্যায্যতা ও সাম্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।’

সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করার দাবি তুলে তিনি বলেন, ‘সৈয়দপুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলে উত্তরাঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এটি।’ তিনি যোগ করেন, ‘জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো উপেক্ষা করা কখনোই কল্যাণকর নয়। বিএনপি যেভাবে জনস্বার্থের বিষয়গুলোতে ব্যাক পাস খেলছে, তাতে উল্টো গোল খাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এটি শুধু বিএনপির জন্য নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।’

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের এই সাবেক সংসদ সদস্য বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য যারা আন্দোলন করেছে, তারাই এখন অনেক গণমাধ্যমকে কুক্ষিগত করে সংবাদকর্মীদের চাকরিচ্যুত ও নির্যাতন করছে। বিশেষ করে সরকারের ভুল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলছেন এমন সাংবাদিকদের টার্গেট করে হেনস্তা করা হচ্ছে।’

এর আগে ঢাকা থেকে একটি উড়োজাহাজে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান গোলাম পরওয়ার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান ও সহসভাপতি গোলাম রব্বানী।

বিমানবন্দরে তাঁদের ফুলেল স্বাগত জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, নীলফামারী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম ও জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান। পরবর্তীতে তাঁরা পঞ্চগড়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।