প্রতি বছর হাজারো ডায়াবেটিক রোগী পবিত্র হজ পালন করেন। তাদের মধ্যে অনেকে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, যাদের ইনসুলিনের ওপর সরাসরি নির্ভরতা। টাইপ-২ রোগীদের মধ্যেও কেউ কেউ ইনসুলিন ব্যবহার করেন। হজকালে বিদেশের উষ্ণ আবহাওয়া এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে ইনসুলিন ব্যবহারকারীদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়।

হজে অঢেল হাঁটা এবং উচ্চ তাপমাত্রায় ইনসুলিন দ্রুত রক্তে মিশে যায়। ফলে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ে, অর্থাৎ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। উষ্ণতায় শরীরে ইনসুলিন কম সঞ্চিত হয়, যার ফলে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া হাজিরা প্রায়ই খেজুরসহ মিষ্টি ফল খান। বিভিন্ন কারণে সময়মতো ইনসুলিন না নেওয়া বা ভুল ধারণায় ছেড়ে দেওয়ায় রক্তে গ্লুকোজ বৃদ্ধির জটিলতা দেখা দিতে পারে।

● ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ইনসুলিন সংরক্ষণ করতে হবে।

● হোটেলের ফ্রিজ হতে পারে ইনসুলিন সংরক্ষণের ভালো জায়গা।

● রোদ থেকে ইনসুলিন দূরে রাখতে হবে।

● গাড়ির ড্যাশবোর্ডে ইনসুলিন রাখা যাবে না।

● উড়োজাহাজে যাত্রার সময় হাতের লাগেজে ইনসুলিন রাখা উচিত।

● উড়োজাহাজে ইনসুলিন বিমানবালাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। উড়োজাহাজের নির্ধারিত ফ্রিজে তাঁরা সংরক্ষণ করবেন।

● উড়োজাহাজে মূল লাগেজে ইনসুলিন রাখা হলে বাইরে থাকার কারণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

● হোটেলের বাইরে বের হলে বিশেষ ধরনের ঠান্ডা ব্যাগের ভেতরে ইনসুলিন রাখতে হবে।

● রক্ত পরীক্ষা করার স্ট্রিপ ও ডায়াবেটিস পর্যবেক্ষণ করার মেশিন যাতে সরাসরি রোদের সংস্পর্শে না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ইনসুলিন নিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকারীদের হজে ইনসুলিনের মাত্রা কমানো বা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। এর জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে।

● রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।

● গ্লুকোজের মাত্রা অনুযায়ী ইনসুলিনের মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।

● ইনসুলিন নিয়ে যাঁদের ডায়াবেটিস আগে থেকেই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তাঁদের গ্লুকোজের পরিমাণ দেখে প্রয়োজনে ইনসুলিনের মাত্রা কমাতে হবে।

● তাওয়াফ, সাঈ করার পাশাপাশি জামারাতে পাথর নিক্ষেপের দিনগুলোতে বেশি হাঁটলে ইনসুলিন কম লাগতে পারে।

● টাইপ-১ ডায়াবেটিক রোগীদের গ্লুকোজের মাত্রা প্রতি লিটারে ১৫ মিলি মোলের বেশি হলে রক্ত বা প্রস্রাবের মধ্যে কিটোন নামে রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে কি না, তা অবশ্যই দেখতে হবে।

● হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে শর্করাসমৃদ্ধ পানীয়, দুধ, ফলের রস অথবা চিনির শরবত পান করতে হবে। এ সময় খেজুর খাওয়া যেতে পারে।

● রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা সব সময় বেশি থাকলে কিংবা প্রস্রাব অথবা রক্তে কিটোনের উপস্থিতির ফলে ডায়রিয়া, বমি ইত্যাদি দেখা দিলে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সিএমএইচ, ঢাকা