সাম্প্রতিক সময়ে প্রজাপতির পাখার মতো ছড়ানো বাটারফ্লাই হেয়ারকাট মেয়েদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বড় বড় হেয়ার স্যালনে এই কাটের চাহিদা এখন তুঙ্গে।

কয়েক বছর ধরে চুলের কাটে নানা ট্রেন্ড চোখে পড়ছে। লেয়ার, বব কাট, লং বব, পিক্সি—এসবের মতো বিভিন্ন স্টাইল পারলারগুলোতে প্রচলিত। মেয়েরা মুখের গড়ন, চুলের ঘনত্ব ও নিজের পছন্দমতো এগুলো বেছে নেন। এখন বাটারফ্লাই হেয়ারকাট নামে একটি স্টাইল সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

সৌন্দর্যচর্চাকেন্দ্র পারসোনার পরিচালক নুজহাত খান জানান, “বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় হেয়ার কাটগুলোর মধ্যে বাটারফ্লাই অন্যতম। কাটটি একই সঙ্গে ট্রেন্ডি ও ক্ল্যাসিক, তাই সব বয়সের মানুষই এটি পছন্দ করছেন।”

এই কাটে চুল হালকা ও ফ্লোয়ি লাগে। চুল একাধিক লেয়ারে কাটা হয়, যাতে সেট করলে লেয়ারগুলো প্রজাপতির ডানার মতো ছড়িয়ে পড়ে। নুজহাত খান বলেন, বাটারফ্লাই হেয়ার কাটের মূল সৌন্দর্য এই লেয়ারিংয়েই লুকিয়ে আছে। এই কাটে চুলকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে কাটা হয়, যাতে আলাদা করে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে প্রতিটি লেয়ার। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথম লেয়ারটি খুব ছোট রাখা যাবে না। মাঝারি দৈর্ঘ্যের লেয়ার রাখলে এই কাট চেহারায় আনবে অনেকটা ন্যাচারাল লুক।

কাটটি বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের চুলে করা যায়, তবে কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুলে এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এই দৈর্ঘ্যে চুলের প্রতিটি স্তর সুন্দরভাবে চোখে পড়ে এবং ঢেউখেলানো ভাব তৈরি হয়। লম্বা চুলেও এটি দারুণ লাগে, বিশেষ করে যারা দৈর্ঘ্য ঠিক রেখে নতুন লুক চান তাদের জন্য।

বাটারফ্লাই কাট ‘সেটিং ডিপেনডেন্ট’। শুধু কাট করলেই সৌন্দর্য ফুটে না। সঠিক ব্লো ড্রাই বা আউটকার্ল করে সেট করলে তবেই এটি পূর্ণ রূপ পায়। আউটকার্ল করলে লেয়ারগুলো স্পষ্ট হয় এবং চুলে ড্রামাটিক ভলিউম তৈরি হয়। ব্লো ড্রাই বা কার্লিং টুল ব্যবহার করে খুব সহজেই এই লুক তৈরি করা সম্ভব জানান নুজহাত খান।

এই কাট প্রায় সব বয়সের মানুষের জন্য উপযোগী। তবে চুলের ধরন গুরুত্বপূর্ণ। খুব পাতলা চুলের জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ লেয়ারের কারণে চুল আরও পাতলা দেখাতে পারে, বলছিলেন নুজহাত খান। ঘন বা পুরু চুলের জন্য এটি আদর্শ। কাটটি সুন্দর রাখতে নিয়মিত ট্রিম করান এবং ভলিউমাইজিং মুস বা হালকা হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করলে সেটিং দীর্ঘস্থায়ী হয়।