৫ মে পালিত হয়েছে বিশ্ব হাঁপানি দিবস (ওয়ার্ল্ড অ্যাজমা ডে)। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘হাঁপানি রোগীদের প্রদাহবিরোধী ইনহেলারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা—একটি জরুরি প্রয়োজন’। ১৯৯৮ সালে শুরু হয় এ দিবসের যাত্রা। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাপী মে মাসের প্রথম মঙ্গলবার এটি উদযাপিত হয়।

হাঁপানি শ্বাসনালির দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত একটি রোগ। বিশ্বজুড়ে ২৬ কোটিরও বেশি মানুষ এতে কাতর। প্রতি বছর এ রোগে সাড়ে চার লাখেরও বেশি মানুষের জীবনহানি হয়।

এসব মৃত্যুর ৮০ শতাংশেরও বেশি ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। বাংলাদেশে ৭০ থেকে ৮০ লাখ মানুষ হাঁপানির সমস্যায় ভুগছেন। ১ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে আক্রান্ততার হার সবচেয়ে বেশি। গ্রামের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে শহরের তুলনায় এর প্রকোপ বেশি দেখা যায়।

হাঁপানির প্রধান লক্ষণগুলো হলো শ্বাসকষ্ট, কাশি, বুকে বাঁশির মতো শব্দ হওয়া, বুকে চাপ অনুভূতি বা দম বন্ধ ভাব। বছরে কয়েকবার, বিশেষ করে অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে এসব উপসর্গ দেখা দেয়।

হাঁপানির রোগীরা বিভিন্ন পদার্থের প্রতি অতিসংবেদনশীল। সংস্পর্শে এলে তাঁদের উপসর্গ বেড়ে যায়। রোগ নিশ্চিত করতে বুকের এক্স-রে, রক্তে অ্যালার্জির মাত্রা, ফেনো, স্পাইরোমেট্রি বা শ্বাসের পরীক্ষা করা হয়।

হাঁপানির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • অ্যালার্জেন—ঘরে কিংবা বাইরে মাইট (মাকড়সা–জাতীয় ক্ষুদ্র জীব), ছত্রাক, ফুলের রেণু, পশুপাখির লোম বা পালক ইত্যাদির প্রতি অতি সংবেদনশীলতা।
  • ধোঁয়া, ধুলো, ঠান্ডা আবহাওয়ার তারতম্য উত্তেজক হিসেবে কাজ করে। ফ্লু বা ভাইরাস সংক্রমণ উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়।
  • ব্যথানাশক রক্ত তরল করার ওষুধ উপসর্গ বাড়াতে পারে।

হাঁপানির চিকিৎসা জীবনব্যাপী চলতে থাকে, এটি পুরোপুরি সারে না। তবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ওষুধ প্রধানত দুই ধরনের—

১. উপশমকারী—যেমন সালবিউটামল।

২. প্রতিরোধকারী—যেমন লিউকোট্রিন অ্যান্টাগনিস্ট, স্টেরয়েড ইনহেলার, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসনালি সংকোচনরোধক ইনহেলার, ডক্সিসাইক্লিন ইত্যাদি।

এছাড়া রোগীকে এই রোগ নিয়ে জীবনযাপনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখতে হয়।

অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন সরকার, বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, সভাপতি, বাংলাদেশ ইন্টারভেনশনাল পালমনোলজি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড স্লিপ সোসাইটি (বিপস)