ঢাকা, ৬ মে ২০২৬ — ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস উইং থেকে দেশ-বিদেশের সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপ প্রয়োগের অভিযোগের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের First Secretary (Press) Tarique Choyon-এর সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও এবং তার সাম্প্রতিক ফেসবুক মন্তব্যসমূহ।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই তারিক চয়ন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই—গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে—পাঠানো কিছু এসএমএসের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। সে সময় দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় তিনি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও পরিস্থিতির তথ্য আন্তর্জাতিক এক মানবাধিকারকর্মীর কাছে সরাসরি বার্তার মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন। যদিও পোস্টটির সরাসরি লিংক উন্মুক্তভাবে পাওয়া যায়নি, একাধিক সূত্রে এর বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে।
এই পোস্টের কিছুক্ষণের মধ্যেই সাবেক উপ-প্রেস সচিব Azad Majumder তারিক চয়নকে ফোন করে আপত্তি জানান বলে অভিযোগ রয়েছে। ফাঁস হওয়া বলে দাবি করা অডিওতে “বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষ” শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং এটি “বিএনপির আন্দোলন ছিল না” বলে মন্তব্য করা হয়। পুরো অডিওর স্বতন্ত্র যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি।
ঘটনাটির আরও একটি দিক সামনে আসে ২০২৫ সালের জুন মাসের একটি ঘটনাকে ঘিরে। জানা যায়, ২২ জুন রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান অর্থমন্ত্রী Amir Khosru Mahmud Chowdhury-এর সঙ্গে একটি ছবি তারিক চয়ন ফেসবুকে প্রকাশ করলে পরদিন সকালে এ বিষয়ে তার কাছে জবাবদিহিতা চাওয়া হয়। এ সময় তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন যে, গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের অংশগ্রহণকে অস্বীকার করা কতটা যৌক্তিক এবং একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত অবস্থান কি স্বাধীনভাবে প্রকাশ করা যাবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে করা তার মন্তব্যগুলোতেও একই ধরনের অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানে তিনি দাবি করেন, জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা “কারও চেয়ে কম ছিল না” এবং কূটনৈতিক মহল, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্য পৌঁছাতে তিনি সক্রিয় ছিলেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, তার পূর্ব রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, যদিও তিনি নিজেকে একজন সাংবাদিক, কলামিস্ট ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন।
একই ধারাবাহিকতায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, কলকাতায় তার দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের সময় প্রশাসনিক অসহযোগিতার বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। সংশ্লিষ্ট ছবি অপসারণ না করার পর তাকে অলিখিতভাবে চাপে রাখা হয়েছিল বলেও বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—গণঅভ্যুত্থানের বর্ণনা ও অংশগ্রহণ নিয়ে ভিন্নমত কতটা গ্রহণযোগ্য এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারি কাঠামোর ভেতরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কতটা নিশ্চিত। একই সঙ্গে তৎকালীন প্রশাসনিক কাঠামোর অভ্যন্তরে ভিন্ন মত বা ব্যক্তিগত অবস্থানের কারণে কোনো কর্মকর্তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়ে থাকলে তা প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নও উত্থাপন করে।
ঘটনাটি প্রথম সামাজিক মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন Zulkarnain Saer। পরবর্তীতে কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অডিও রেকর্ডের স্বাধীন যাচাই এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পুরো বিষয়টি এখনো যাচাই-প্রক্রিয়াধীন থাকলেও, এটি নিশ্চিতভাবেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত অবস্থান এবং রাষ্ট্রীয় ন্যারেটিভের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
Zulkarnain Saer Facebook Post: https://www.facebook.com/share/v/1DDbaUfWLL/






