একা ভ্রমণ করে নতুন স্থান ঘুরে বেড়ানোর সাথে নিজের সঙ্গে সময় কাটানো, স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার অসাধারণ সুযোগ জড়িত। কিন্তু এই স্বাধীনতার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। তাই কোনো দেশে যাওয়ার আগে তার নিরাপত্তা অবস্থা সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। একা ভ্রমণ শান্তিপূর্ণ ও উদ্দীপক হলেও পরিকল্পনার অভাবে ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়। অতএব ভ্রমণের পূর্বে নিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকা দেখে নেওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম অনলাইন ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স বা ভ্রমণ বিমা মার্কেটপ্লেস স্কয়ারমাউথ গবেষণার জন্য প্রথমে জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচক অনুযায়ী ১১৩টি দেশের একটি তালিকা তৈরি করে।
এই সূচক কোনো দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন—যেমন শিক্ষা, আয় এবং জীবনমান পরিমাপ করে। এরপর তারা দেশগুলোর নিরাপত্তা মূল্যায়নের সময় দেশের অপরাধের হার, রাতে একা হাঁটার সময় মানুষ কতটা নিরাপদ মনে করে, স্বাস্থ্যসেবার মান, গ্লোবাল পিস ইনডেক্সে দেশের অবস্থান এবং অন্যান্য সামাজিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সূচক—এসব বিষয় বিবেচনা করে।
প্রতিটি বিষয়কে শূন্য থেকে ১০ স্কেলে মূল্যায়ন করা হয় এবং সেসবের গড় স্কোরের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হয়েছে কোন দেশ বেশি নিরাপদ আর কোনটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। যে দেশ কম নম্বর পায়, সেটি বেশি নিরাপদ। আর যে দেশ বেশি নম্বর পায়, সেটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
তবে এই তালিকা শুধু একটি সাধারণ ধারণা দেয়। কারণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় কোনো দেশের নিরাপত্তা বদলে যেতে পারে। এ ছাড়া কোনো দেশ সাধারণভাবে ‘নিরাপদ’ হলেও নারী বা সংখ্যালঘুদের জন্য তা সব সময় সমান নিরাপদ না–ও হতে পারে।
২০২৬ সালে নারীদের একা ভ্রমণের জন্য নিরাপদ যে ৫ দেশ। স্যান ম্যারিনো দক্ষিণ ইউরোপের একটি ছোট, স্থলবেষ্টিত ও স্বাধীন রাষ্ট্র। বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচিত দেশটি ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। ইতালি দ্বারা পরিবেষ্টিত এই ছোট পাহাড়ি দেশটির স্কোর মাত্র ০.৭৮ (১০-এর মধ্যে)।
এর নিরাপত্তার কারণ—
- উন্নত স্বাস্থ্যসেবা
- কম পরিবেশগত ঝুঁকি
- উচ্চ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
- এমনকি প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ রাতে একা বের হলেও নিরাপদ বোধ করেন
স্যান মারিনো ছাড়াও আরও ৯টি দেশ ভ্রমণের জন্য নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। শীর্ষ নিরাপদ দেশগুলোর তালিকায় আছে যথাক্রমে—
- অ্যান্ডোরা
- সিঙ্গাপুর
- অস্ট্রিয়া
- চেক প্রজাতন্ত্র
- কাতার
- এস্তোনিয়া
- ব্রুনেই
- ডেনমার্ক
- স্লোভেনিয়া
তবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে কাতারে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
কোনো দেশকে ‘বিপজ্জনক’ বলা হয় তখনই, যখন সেখানে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তার ঝুঁকি বেশি থাকে। এর মানে হলো সেখানে কিছু সমস্যা বেশি দেখা যায়; যেমন—দুর্বল অবকাঠামো, সীমিত স্বাস্থ্যসেবা এবং সার্বিকভাবে খারাপ নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
শীর্ষ ১০ বিপজ্জনক দেশের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ভেনেজুয়েলা। এরপর যথাক্রমে আছে—
- পেরু
- গ্যাবন
- কলম্বিয়া
- বলিভিয়া
- জ্যামাইকা
- গায়ানা
- ইকুয়েডর
- ত্রিনিদাদ ও টোবাগো
- দক্ষিণ আফ্রিকা
এসব দেশে একা ভ্রমণ করা তুলনামূলক নিরাপদ হলেও কিছু সতর্কতা নিলেই আরও নিরাপদ থাকা সম্ভব। যেমন—
ভ্রমণ পরিকল্পনা শেয়ার করুন: আপনার পরিবার বা বন্ধুদের জানিয়ে রাখুন আপনি কোথায় যাচ্ছেন এবং কোথায় থাকবেন। হোটেলের রিসেপশনেও আপনার পরিকল্পনা জানিয়ে রাখতে পারেন। এ ছাড়া ফোনের ডেটা চেক করে নিন, যাতে প্রয়োজনে সহজে যোগাযোগ করা যায়।
আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলাফেরা করুন: চোর বা ছিনতাইকারীরা সাধারণত এমন মানুষকে টার্গেট করে, যারা হারিয়ে গেছে বা বিভ্রান্ত মনে হয়। তাই টাকা ও ফোন নিরাপদে রাখুন। যদি বাসস্টপ খুঁজে পেতে সমস্যা হয়, তাহলে ম্যাপ দেখে নিন অথবা পুলিশের সাহায্য নিন।
দামি জিনিস নিরাপদে রাখুন: গয়না, টাকা ও পাসপোর্ট হোটেলের লকারে রেখে দিন। বাইরে গেলে শুধু প্রয়োজনীয় টাকা, পরিচয়পত্র ও ক্রেডিট কার্ড সঙ্গে নিন। এ ছাড়া পাসপোর্টের একটি ফটোকপি সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
পরিবেশ বুঝে চলুন: অনিরাপদ বা নির্জন জায়গা এড়িয়ে চলুন। অপরিচিত কারও সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
একা ভ্রমণ এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা হতে পারে, যদি আপনি সচেতন ও প্রস্তুত থাকেন। সঠিক তথ্য জানা এবং সতর্ক থাকা—এ দুটিই আপনাকে নিরাপদ ও আনন্দময় ভ্রমণ উপহার দেবে।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট






