লিখেছেন আইইএলটিএস প্রশিক্ষক মুহাম্মদ ইয়াসির
স্কুল-কলেজে ১২ বছর পড়াশোনা করেও আমাদের ইংরেজি বলায় জড়তা থেকে যায়। ফলে আইইএলটিএস বা টোয়েফলের মতো পরীক্ষায় আমরা ঘাবড়ে যাই এবং আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলি।
কিন্তু সঠিক উচ্চারণ রপ্ত করলে আপনি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন। এতে আইইএলটিএস ও টোয়েফলে ভালো স্কোর পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে। মনে রাখবেন, ভালো উচ্চারণে ইংরেজি বলা শুধু জিহ্বার কাজ না। প্রথমত এটা কানের কাজ, তারপর মস্তিষ্কের, আর সব শেষে জিহ্বার। গবেষণায় দেখা গেছে, মনোযোগ দিয়ে শোনা, মডেল অনুকরণ করা, পুনরাবৃত্তি করা এবং নিজের উচ্চারণ যাচাই করার ধারাবাহিক অনুশীলন শিক্ষার্থীর উচ্চারণ উন্নতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থীর সমস্যা এক জায়গায় এসে আটকে যায়। তারা শব্দের বানান আগে দেখে, ধ্বনি পরে শোনে। ফলে শব্দ মুখে আসে, কিন্তু সঠিক উচ্চারণ আসে না। vegetable হয়ে যায় ভেজিটেবল, আর comfortable এমনভাবে বলা হয় যে শব্দটি নিজেই অস্বস্তিতে পড়ে। উচ্চারণ শেখার জন্য ‘টপ-ডাউন’ পদ্ধতি কাজ করে—আগে অর্থপূর্ণ বাক্য, সংলাপ, গল্প, ভিডিও ক্লিপ, গান বা বাস্তব কথাবার্তা শুনুন। তারপর নিয়মকানুন শিখবেন।
উচ্চারণ শেখা মানে শুধু আলাদা ধ্বনি শেখা নয়। শিখতে হবে শব্দের কোন অংশে বা বাক্যের কোন শব্দে জোর দিতে হবে, ছন্দ কীভাবে হবে, শব্দের গুচ্ছ উচ্চারণ ও বিরতি কেমন হবে। বাক্যের সুরও এর সঙ্গে জড়িত। উদাহরণস্বরূপ, Can I get a cup of tea? বলার সময় অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শব্দে-শব্দে খণ্ডিতভাবে বলেন।
এখানে ছায়া-অনুকরণ পদ্ধতি খুব কার্যকর। এতে অন্য বক্তার কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে একই গতিতে, সুরে ও ছন্দে পুনরায় বলতে হয়। শোনা-বলা-রেকর্ড করা-তুলনা করার কৌশল যোগ করলে শেখা আরও দ্রুত হয়।
নিজের কণ্ঠ নিজে শোনা একটা আয়নার মতো, যা ভুল ধরায় এবং উন্নতির পথ দেখায়। উচ্চারণ শেখার জন্য একটা মুঠোফোন, ছোট অডিও রেকর্ডার আর নিয়মিত মনোযোগ যথেষ্ট। অনুসরণ বা অনুকরণ কোনো ফ্যাশনেবল টিপস নয়, বরং গবেষণায় প্রমাণিত কার্যকর কৌশল।
আরও একটা শক্তিশালী উপায় হলো শোনা-উচ্চারণ-রেকর্ড-তুলনা। প্রথমে শুনুন, তারপর বলুন, মুঠোফোনে রেকর্ড করুন এবং মূল অডিওর সঙ্গে তুলনা করুন। এই তুলনাই আপনার আয়না। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিজের ভয়েস রেকর্ডিং শিক্ষার্থীর উচ্চারণ দক্ষতা বাড়ায়।
গান শুনে উচ্চারণ ভালো হয় কি? হ্যাঁ, তবে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে করলে। ধীর গতির গান, পরিষ্কার লিরিক্স এবং সুর মিলিয়ে গুনগুন করলে গানের প্রকৃত ভাব শেখা যায়।
ছোট সিনেমা বা সাক্ষাৎকারের ভিডিও থেকে কপি করা অসাধারণ কাজ করে। পুরো সিনেমা দেখে মুগ্ধ হওয়া আর ১৫ সেকেন্ডের ইংরেজি সংলাপ ১০ বার নকল করা—দুটো আলাদা। দ্বিতীয়টাই আপনাকে বদলে দিতে পারে। একটা ক্লিপ বেছে নিন, যেমন অভিবাদন, প্রশ্ন বা আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া। দেখুন বক্তা কোথায় ঠোঁট খোলেন, শব্দ জোড়া লাগে, জোর দেন, বিরতি দেন। এই অনুসরণ মুখকে নতুন ছন্দ শেখায়। উচ্চারণ শেখা গানের তাল তোলার মতো—আগে নকল করুন, পরে স্বাভাবিক হবে। ইংরেজি শেখার সময় দক্ষ বক্তাকে অনুকরণ করে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি অভ্যাসে পরিণত করুন।
ইংরেজি উচ্চারণের ৪৪টি আন্তর্জাতিক ধ্বনি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকা জরুরি। ‘মিনিমাল পেয়ারস’ চর্চা বিভ্রান্তি কাটায়, যেমন Ship/Sheep, Bat/Bet, Fan/Van। এগুলোর সূক্ষ্ম পার্থক্য ধরলে জড়তা দ্রুত কমে। টেসল পদ্ধতিতেও এই জোড়া শব্দকে সেরা উপায় মানা হয়েছে। ফোনিকস-ফোনেটিকসের সমন্বিত পদ্ধতি কার্যকর। ছোটদের জন্য Cat, Pen, Big দিয়ে শুরু, বড়দের জন্য School, Street, Splash-এর মতো জটিল যুক্তবর্ণ নিয়ে কাজ করুন।
সাধারণ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে হুট করে শুরু করবেন না। প্রথম ধাপে প্রতিদিন ১০ মিনিট শোনা, দ্বিতীয় ধাপে ৫ মিনিট অনুসরণ, তৃতীয় ধাপে ৫ মিনিট রেকর্ড করে তুলনা। এভাবে ৩০ মিনিটের রুটিন কয়েক সপ্তাহ চালালে উচ্চারণে পরিবর্তন দেখবেন। শেখা শব্দ বা বাক্য কাউকে শেখান।






