বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটই জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়ে সর্বোচ্চ আইনি ভিত্তি বহন করে। যখন ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়, তখন তা অস্বীকারের সুযোগ নেই।
আজ শুক্রবার জুমার নামাজের আগে গাজীপুরের টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংবিধানের আলোকে জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন এবং সেই অভিপ্রায় উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করে সরকার দেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করছে। পাঁচ কোটি মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটে গৃহীত সংস্কারকে অস্বীকার করা জনগণের মতামতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল।
জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ৮৪ দফা সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতির আদেশ, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সরকার সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে নতুন করে সংকট সৃষ্টি করেছে।
বগুড়া ও শেরপুরের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ভোটের ফলাফল প্রকাশ বিলম্বিত করে কারচুপির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
সংসদে জামায়াত দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সহিংসতার পথ পরিহার করে আমরা সংসদ ও রাজপথে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন টঙ্গী পূর্ব থানা জামায়াতের আমির মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব ও গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন।
টঙ্গী পশ্চিম থানা জামায়াতের সেক্রেটারি আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মুহাম্মদ খায়রুল হাসান, মুহাম্মদ হোসেন আলী, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও সদর মেট্রো থানা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী এমপি ও মহানগর সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুহাম্মদ ফারুক।






