দুর্ঘটনা বা আঘাতে শরীরের বিভিন্ন হাড় ভেঙে যেতে পারে। কাঁধের পেছনের অংশে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ স্ক্যাপুলা হাড়ে ফাটল বা ভাঙন হলে তাকে স্ক্যাপুলা ফ্র্যাকচার বলা হয়।
স্ক্যাপুলা বা কাঁধের ব্লেড ত্রিভুজাকার সমতল হাড়, যা পিঠের উপরের অংশে থাকে। এটি কাঁধের জোড়া গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং বাহুর নড়াচড়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এই হাড়ের সঙ্গে বিভিন্ন পেশি ও লিগামেন্ট সংযুক্ত, যা হাত ওঠানো, ঘোরানো বা নড়াচড়ায় সাহায্য করে। তাই স্ক্যাপুলায় আঘাত লাগলে সমগ্র কাঁধের কার্যকারিতা কমে যায়।
কাঁধ বা পিঠের উপরের অংশে তীব্র ব্যথা, কাঁধ নড়ানোর অসুবিধা, কাঁধের পেছনে ফোলা বা কালচে দাগ, হাত তোলা বা ঘোরানোর কষ্ট, গভীর শ্বাস নেওয়ার সময় ব্যথা—এমন লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অনেক ক্ষেত্রে স্ক্যাপুলার আঘাতের সঙ্গে পাঁজরের হাড় ভাঙলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
চিকিৎসক প্রথমে রোগীর শারীরিক পরীক্ষা করেন এবং আঘাতের ইতিহাস জানেন। তারপর এক্স-রে, সিটি স্ক্যান বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষার মাধ্যমে ভাঙনের ধরন নির্ণয় করা হয়। এতে ভাঙনের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বোঝা যায়।
স্ক্যাপুলা ফ্র্যাকচারের চিকিৎসা আঘাতের মাত্রা ও ভাঙনের ধরনের উপর নির্ভর করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার ছাড়াই চিকিৎসা সম্ভব। রোগীকে কয়েক সপ্তাহ কাঁধ স্থির রাখার জন্য স্লিং বা সাপোর্ট ব্যবহার করতে হয়, যাতে হাড় ধীরে ধীরে জোড়া লাগে।
ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করুন। হাড় জোড়া লাগার পর কাঁধের শক্তি ও নড়াচড়া ফিরিয়ে আনতে ফিজিওথেরাপি করা হয়। যদি হাড়ের অংশ বেশি সরে যায়, ভাঙন জটিল হয় বা কাঁধের জোড়ায় সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন পড়তে পারে। অস্ত্রোপচারে হাড় সঠিক অবস্থায় বসানো হয়।
দুর্ঘটনা থেকে নিজেকে রক্ষা করাই স্ক্যাপুলা ফ্র্যাকচার প্রতিরোধের সেরা উপায়। মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার, খেলাধুলায় সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং ভারী কাজে সতর্কতা অবলম্বন করুন।
স্ক্যাপুলা ফ্র্যাকচার সাধারণ নয় যদিও গুরুতর। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে কাঁধের নড়াচড়া দীর্ঘদিন সীমিত হতে পারে। তাই কাঁধে গুরুতর আঘাত লাগলে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
অধ্যাপক ডা. জি এম জাহাঙ্গীর হোসেন, আর্থ্রোস্কোপিক সার্জন, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), ঢাকা






