রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতা ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’ হয়েছেন। গতকাল ৩ এপ্রিল রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে বিজয়ীর ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। এই আনন্দময় মুহূর্তের পর আজ দুপুরে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বর্ণিতা এসেছিলেন কারওয়ান বাজারের মুক্তকণ্ঠ কার্যালয়ে।
প্রতিযোগিতার সময় কোরিগ্রাফার ও মডেল আজরা মাহমুদ বর্ণিতাদের সমন্বয়ক ছিলেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে বর্ণিতাকে কঠোর ডায়েট মেনে চলতে হয়েছে। তিনি বলেন, “খাবার ছিল খুব নিয়ন্ত্রিত। কার্বোহাইড্রেটসহ সবকিছুই মেপে খেতে হতো।”
এই কড়াকড়ি নিয়মের মধ্যে বর্ণিতা দিন গুনতেন কবে প্রতিযোগিতা শেষ হবে, কবে নির্ভয়ে ভাত খাওয়া যাবে। অবশেষে গতকাল বিজয়ের রাতে বাসায় ফিরে মায়ের হাতের ভাত খেয়ে সেই অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটলো।
বর্ণিতার বাবা মেহবুব আলম বর্ণ সাংবাদিক পেশায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি মেয়েকে সংস্কৃতিময় করে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। পেশাগত ব্যস্ততায় সর্বক্ষণ পাশে না থাকলেও মা মেরী ইয়াসমিন নিয়মিত তাঁকে নাচ, গান ও ছবি আঁকার ক্লাসে নিয়ে যেতেন।
ত্বকের যত্ন নিয়ে কথা হলো। বর্ণিতা ত্বকের যত্নে খুব বেশি কিছু করেন না। মায়ের তৈরি ঘরোয়া ফেসপ্যাক, পর্যাপ্ত পানি পান ও নিয়মিত ঘুম—এই তিনটিকে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
২০ বছর বয়সী বিদুষী বর্ণিতা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বিনোদন জগতে ছোটবেলা থেকেই হাতেখড়ি। এবিসি রেডিওর এক অনুষ্ঠানের জনপ্রিয় ইন্ট্রো ‘কী শুনাইলেন কিবরিয়া ভাই’ ছিল তাঁর কণ্ঠে। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা। সাত বছর বিরতির পর গত বছর ‘লাক্স সুপারস্টার’ পুনরায় শুরু হলে মনে হয়েছিল, এটাই হয়তো তাঁর সময়।
দশ বছর পর বর্ণিতার প্রতি উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “এখন যেমন আছ, মানুষের যে ভালোবাসা পাচ্ছ, সেটাই ধরে রাখো। ডোন্ট চেঞ্জ, বাট বিকাম বেটার।”






