গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে গুমের সংজ্ঞায়ন, অপরাধ নিরসন এবং গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হয়েছিল। এই আইন পাস করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু এখন অধ্যাদেশটি কার্যকরতা হারিয়েছে। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পাস না হলে এটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে যাবে। সরকার নতুন করে এই অধ্যাদেশ নিয়ে বিল উত্থাপন করবে বলছে, তবে এর গুরুত্ব কতটা পাবে তা অনিশ্চিত।

আগের আওয়ামী লীগ সরকার গুমের মাধ্যমে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিল, যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ছিল বিএনপি। তখন বিএনপিও গুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের সুযোগ এলে এটি ল্যাপস হয়ে যাচ্ছে। এই অধ্যাদেশের পরিমার্জিত সংস্করণ তৈরি করলে ভবিষ্যতে এটি আইন হয় কি না, সে নিয়ে সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগ কমত। আইনে দুর্বলতা থাকলে কেউ না কেউ সুবিধা পায়। অধ্যাদেশটি আইন না হলে বা আইন হলেও দুর্বলতা রয়ে গেলে কোনো না কোনো মহল সুযোগ নেবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করবে—এর আভাস দিয়েছিল নতুন অধ্যাদেশ। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোর মাধ্যমে আগের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ ছিল। যদিও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এটি মানবাধিকার নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়। তবু সবাই মনে করেছিল, এর মাধ্যমে আগের চেয়ে পরিস্থিতি উন্নত হবে। কিন্তু এখন সেটাও অকার্যকর হচ্ছে। সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে অধ্যাদেশটিকে কাঙ্ক্ষিত আইনে রূপান্তর করা সম্ভব ছিল। তা না করে বাতিল করলে দেশ পুরোনো আইনে ফিরবে, স্বস্তির জায়গা থাকবে না এবং মানুষের আস্থার অভাব রয়ে যাবে।

নতুন অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে একটি কাঠামো ছিল। আগে কমিশনের সিদ্ধান্তে সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ ছিল। ভবিষ্যতে কমিশন মুক্তভাবে কাজ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারে আনার ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা কী হবে, তাও নিশ্চিত নয়। সরকার যদি নতুন করে বিল উত্থাপন করে এবং সেখানে ঘাটতি বা দুর্বলতা থাকে, তাহলে স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠন সম্ভব হবে না।

মো. নূর খান সদস্য, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন