মৌসুম বদলের সময় শিশুদের মধ্যে হাম ছাড়াও বিভিন্ন সংক্রামক রোগ দেখা দিতে পারে। ভাইরাস বা জীবাণু সংক্রমণে প্রথমদিকে জ্বর, কাশি এবং ত্বকে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ির মতো একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। তাই জ্বর ও ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা গেলেই হাম বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অন্যান্য জীবাণুর কারণেও এমন হতে পারে। কোন সংক্রমণে কী ধরনের উপসর্গ হয় তা জেনে রাখা জরুরি।

বর্তমানে জলবসন্ত ও চিকেন পক্সেরও মৌসুম চলছে। অনেক শিশুর জলবসন্ত হচ্ছে। এতে জ্বর, মাথাব্যথা ও শীত শীত ভাবের সঙ্গে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সারা শরীরে লালচে টসটসে ফুসকুড়ি বেরোয়। এই দানাগুলো মুখের ভেতরও হতে পারে। দানাগুলো সাধারণত পানি বা পুঁজে ভর্তি থাকে, পরে ফেটে ঘায়ের মতো হয়। জলবসন্তের র‍্যাশ বা দানা প্রচুর চুলকায়। এগুলো প্রথমে পেটে ও পিঠে দেখা দিয়ে ধীরে ধীরে হাত, পা ও সারা গায়ে ছড়ায়। রোগটি নিজে থেকেই সারে এবং দানাগুলো শুকিয়ে আস্তে আস্তে পড়ে যায়।

এই রোগটিও বসন্তকালে বেশি হয়। এর কারণ মিজলস নামের ভাইরাস। জ্বর বা সর্দিকাশি না থাকলেও শরীরে র‍্যাশ হতে পারে। বিশেষ লক্ষণ হলো কানের পাশে, পেছনে, গলার লসিকাগ্রন্থি ফুলে ব্যথা করা। র‍্যাশ বেরোনোর ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে এই উপসর্গ শুরু হয় এবং প্রায় সাত দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। র‍্যাশগুলো লাল লাল দানার মতো, মুখ, পিঠ, পেট ও সারা শরীরে ছড়ায় কিন্তু তিন দিনের মধ্যে মিলিয়ে যায়। এগুলো সামান্য চুলকায়।

কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের শিশুদের মধ্যে এই রোগ দেখা যাচ্ছে। সাধারণত পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের হয়। জ্বর, শরীরব্যথা, ফ্লুর মতো উপসর্গের সঙ্গে মুখে ঘা ও হাতে পায়ে ফোসকার মতো ওঠে। ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেরে যায় কিন্তু বেশ কষ্ট দেয়। এটি উচ্চ সংক্রামক এবং দ্রুত ছড়ায়।

মেনিনজোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া দিয়ে এই সংক্রমণ সাধারণত ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের হয়। এটি মারাত্মক রোগ। জ্বর, পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে ছোট ছোট লাল, বেগুনি বা বাদামি দানা দেখা দেয়। দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক না দিলে নানা জটিলতা হয় এবং মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

ডেঙ্গু এখন বাংলাদেশের যেকোনো মৌসুমেই হচ্ছে। জ্বর ও মাথাব্যথা শুরুর দুই-তিন দিন পর ত্বকে র‍্যাশ বেরোয়। এগুলো ছোট ছোট লাল দানা, ত্বক থেকে একটু উঁচু, হামের মতোই দেখায়। কখনো কখনো চুলকায়।

জ্বর, কাশি, সর্দি বা নাকে পানি পড়া দিয়ে শুরু হয়। তারপর মুখ, ঘাড় বা কানের পেছন থেকে র‍্যাশ শুরু করে দ্রুত সারা শরীরে ছড়ায়। এগুলো লালচে বা বাদামি রঙের। শিশুদের মুখের ভেতর ঘা স্পট দেখা দিতে পারে। জটিলতায় কান পাকা, নিউমোনিয়া হতে পারে।

অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী, সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুরোগ বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ।