ত্বকের উপর জমা মৃত কোষ সরিয়ে পরিষ্কার করাই এক্সফোলিয়েশন। এতে ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়, এবং কোনো স্কিনকेयर পণ্য ভালোভাবে কাজ করে। এখানে এক্সফোলিয়েট করার কয়েকটি সহজ উপায় তুলে ধরা হলো।

এটি সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতি। প্রথমে মুখ ধুয়ে নিন। অল্প পরিমাণ ফেস স্ক্রাব হাতে নিন। মুখে হালকা করে বৃত্তাকারে ৩০–৬০ সেকেন্ড ম্যাসাজ করুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে এক থেকে দুবার স্ক্রাবিং করতে পারেন।

এতে বিশেষ অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়। যেমন গ্লাইকলিক, স্যালিসাইলিক, ল্যাকটিক, পলিহাইড্রক্সি অ্যাসিড ইত্যাদি। এসব উপাদান ত্বকের মৃত কোষ গলিয়ে ফেলে। বাজারে এসএলসি (স্যালিসাইলিক ও ল্যাকটিক অ্যাসিড জেল)–এর মতো (প্যারাবেন ফ্রি) ফেসওয়াশ পাওয়া যায়। এই ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। ত্বকে টোনার বা সিরাম লাগান। তারপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

ঘরে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েও হালকা এক্সফোলিয়েশন করা যায়। কিছু উদাহরণ—

ক. চিনি ও মধুর স্ক্রাব

যাঁদের জন্য ভালো: সব ধরনের ত্বক, বিশেষ করে নরম এক্সফোলিয়েশন চাইলে। মধু ত্বক নরম রাখে, আর চিনি মৃত কোষ তুলে দেয়।

কীভাবে করবেন

  • ১ চামচ চিনি ও ১ চামচ মধু মেশান
  • মুখে হালকা করে ১ মিনিট ম্যাসাজ করুন
  • পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন

খ. ওটস ও দইয়ের স্ক্রাব

যাঁদের জন্য ভালো: শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বক। এটি খুব মৃদু এবং ত্বককে ঠান্ডা ও শান্ত করে।

কীভাবে করবেন

  • ১ চামচ ওটসগুঁড়া ও ১ চামচ দই মেশান
  • মুখে লাগিয়ে ১–২ মিনিট আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন
  • তারপর ধুয়ে ফেলুন

গ. কফি পাউডার ও নারকেল তেল

যাঁদের জন্য ভালো: এটা সবচেয়ে ভালো কাজ করে শুষ্ক ত্বকে। নারকেল তেল খুব ভালো ময়েশ্চারাইজার, আর কফির দানাদার অংশ মৃত কোষ তুলে দেয়—ফলে ত্বক নরম ও মসৃণ লাগে। যাঁদের ত্বক খুব বেশি তেলতেলে বা শুষ্ক নয়, তাঁরাও সপ্তাহে ১–২ বার ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বক একটু উজ্জ্বল ও সতেজ দেখায়।

কীভাবে করবেন

  • সমপরিমাণ কফি পাউডার ও নারকেল তেল ভালোভাবে মেশান
  • হালকা করে ১ মিনিট ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন

তৈলাক্ত ত্বক (ওয়েলি স্কিন)

  • সপ্তাহে ১–২ বার এক্সফোলিয়েট করুন
  • তৈলাক্ত ত্বকে স্ক্রাব বা হালকা কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েশন ভালো
  • বিশেষ করে স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে ভালো কাজ করে
  • এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল ও ব্রণ কমাতে সাহায্য করে
  • অর্থাৎ, ত্বকের তৈলাক্ততা কমিয়ে পিএইচের মান নিয়ন্ত্রণ করে

শুষ্ক ত্বক (ড্রাই স্কিন)

  • খুব মৃদু এক্সফোলিয়েশন দরকার
  • ওটস, দই বা ময়েশ্চারাইজিং স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন
  • ল্যাকটিক অ্যাসিড–জাতীয় হালকা কেমিক্যাল ভালো
এক্সফোলিয়েশনের পর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। নয়তো ত্বক টান টান হয়ে সেনসিটিভ আচরণ করতে পারে।

সংবেদনশীল ত্বক (সেনসিটিভ স্কিন)

  • সপ্তাহে ১ বার স্ক্রাবিং করাই যথেষ্ট
  • খুব নরম, হালকা ও জেন্টল পদ্ধতি প্রয়োগ করুন
  • গ্লাইকলিক অ্যাসিড ত্বকের জন্য কঠোর হতে পারে, তাই এড়িয়ে চলা ভালো
  • ওটস বা অ্যালোভেরার সঙ্গে দই মিশিয়ে এক্সফোলিয়েট করা সবচেয়ে নিরাপদ
  • সপ্তাহে ১–২ বারের বেশি এক্সফোলিয়েট করবেন না
  • খুব জোরে ঘষবেন না
  • এক্সফোলিয়েট করার পর ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
  • ত্বক জ্বালা করলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করুন। প্রয়োজনে চর্মবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন

সূত্র: এমএসএন