সবাই বাড়ি ফিরে ঈদ করেন না। অনেকে হাজার মাইল দূরে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদ পালন করেন। বাড়ির জন্য মন কাঁদলেও নানা দেশের সঙ্গী-সাথীদের সঙ্গে এই উৎসবের আলাদা আনন্দ আছে। এ কথা লিখেছেন আসিফ খান। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার দং ইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

সিউলে যখন ঈদের চাঁদ উঠল, মনটা সঙ্গে সঙ্গে চলে গেল বাংলাদেশের চেনা গ্রামে। সেখানে ঈদের সকাল মানেই ছিল পুকুরে সবাই মিলে গোসল, দল বেঁধে নামাজে যাওয়া এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো।

ঈদের ভোরে ঘুম ভাঙতেই দেখলাম তাপমাত্রা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। তবু ঈদের আমেজ ধরে গরম পানিতে গোসল করে দেশ থেকে আনা পাঞ্জাবি পরলাম। আতর মেখে বেরোনোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় মনে হলো, এখনই আজম কাকা ডাক দেবে ‘চল আমার বাইকে, ঈদগাড় যাই।’ বাবা বলবে ‘আমার জায়নামাজটা নিয়ে যা।’ মা হাতে তুলে দেবে গরম সেমাই। কিন্তু বাস্তবতা ছিল একদম ভিন্ন।

মেক্সিকান বন্ধু অ্যালেন পাঞ্জাবি পরেছিল, চিলিয়ান বন্ধু জেইন শাড়ি। সিউল সেন্ট্রাল মসজিদে নামাজ শেষে এক পাকিস্তানি ভাইয়ের সাহায্যে কয়েকটা ছবি তুললাম। সেগুলো পাঠালাম পরিবারের কাছে। সবচেয়ে বেশি মনে পড়ল একমাত্র মেয়ে আরিয়াকে। আমাকে ছাড়া এটাই তার প্রথম ঈদ। নামাজ শেষে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে কাজে চলে গেলাম।

বাংলাদেশে আমরা অতিরিক্ত ছয় তাকবিরে ঈদের নামাজ পড়ি। এখানে ছয়ের সঙ্গে ছয় যোগ হয়ে বারো তাকবিরে নামাজ আদায় করা হয়। এ অভিজ্ঞতা আমার কাছে নতুন। ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা নিজ নিজ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে এসেছিলেন। দেখতেই ভালো লাগছিল।

অপরিচিত পাকিস্তানি, বাংলাদেশি, ভারতীয়, উজবেক মানুষের সঙ্গে কোলাকুলি করেও মনটা হালকা হয়েছে। প্রবাসজীবনের বাস্তবতা হলো—এখানে ঈদের দিনটাও ব্যস্ততায় ভরা। নামাজ শেষে বিকেল পর্যন্ত একটা রেস্তোরাঁয় কাজ করেছি। কাজের ফাঁকে সেমাই খেয়েছি। বিভিন্ন দেশের মুসলিম ও অমুসলিমদেরও খাইয়েছি। রেস্তোরাঁর কাজ শেষে একটা মার্টে মরিচ প্যাকেজিংয়ের কাজও করেছি।

অন্যরকম এই ঈদ স্মৃতিতে চিরদিন থেকে যাবে।