
পানিতে তলিয়ে গেছে ধান, ঋণে জর্জরিত হাওরের কৃষকেরা
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের অন্তেহরি গ্রামের চিত্র সবচেয়ে বেশি খারাপ। পাকা ধানের খেত পানির নিচে, কেটে আনা ধানও রোদ না থাকায় শুকানো যায়নি।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের অন্তেহরি গ্রামের চিত্র সবচেয়ে বেশি খারাপ। পাকা ধানের খেত পানির নিচে, কেটে আনা ধানও রোদ না থাকায় শুকানো যায়নি।

সরকারি হিসাবে অতিবৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে জুড়ী উপজেলার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ধান পানির নিচে চলে গেছে।

হাওরাঞ্চলে বন্যার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে মে মাসে—প্রায় ৫০ শতাংশ। আবার এপ্রিলের শেষভাগে বন্যার প্রকোপ থাকে প্রায় ৪২ শতাংশ।

তিন ধরনের ‘বন্যা’ হয় হাওরে। উকিল মুন্সীর গানের মতো ‘আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি’ সাধারণ ঋতুভিত্তিক বন্যা।

আগে হাওরের বাঁধ ভেঙে ধান নষ্ট হতো। এবার হঠাৎ বৃষ্টিতে, জলাবদ্ধতায়। তরমুজ, মুগ ডাল, বাদাম ও সূর্যমুখীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সুনামগঞ্জে এবার মার্চের মাঝামাঝি থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয় অতিবৃষ্টি, নামে উজানের পাহাড়ি ঢল।

হাওরের ফসলহানির ফলে জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে, প্রকৃত কৃষকদের তালিকায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে বক্তারা জানান।

টানা বৃষ্টির কারণে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে কৃষিশ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দুই হাজার টাকা দৈনিক মজুরিতেও শ্রমিক মিলছে না।

‘জমির ধান গেল পানিতে, এখন খলার (কাটার পর স্তূপ করে রাখা) ধান নষ্ট অইযায় রইদের ( রোদ) অভাবে।’

শুকাতে না পেরে ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বস্তাসহ সেসব ধান হাওরের পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছেন কিশোরগঞ্জের হাওরের কৃষকেরা।

কৃষক আবদুল মালিক (৮৫) হাওরে ২৯ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে ২০ বিঘাই তলিয়ে গেছে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে।

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরে ধানখেত তলিয়ে গেছে। শ্রমিকসংকট ও বাড়তি খরচে বিপাকে কৃষকেরা; প্রাথমিকভাবে শতাধিক হেক্টর ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা।