কিশোরগঞ্জের হাওরে বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে ঘুরতে এসে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেরপুর হাওরের বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন।
নিহত কাউসার ইসলাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বড়িপাশা গ্রামের আবদুর রব শিকদারের ছেলে। তিনি 'বে' কোম্পানির উত্তরা শোরুমে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকালে কাউসারসহ ৫৬ জনের একটি দল ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের হাওরে ঘুরতে আসেন। তারা বাসে ইটনা উপজেলার চৌগাংগা এলাকায় পৌঁছানোর পর সেখান থেকে ট্রলার বা নৌকায় বগাডুবি সেতু এলাকায় যান। দুপুর আড়াইটার দিকে সেতুসংলগ্ন ডুবে যাওয়া সড়কে কয়েকজন গোসল করতে নামেন। এ সময় এক সহকর্মীকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে দেখে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে কাউসার নিজেই পানিতে তলিয়ে যান। পরে আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কাউসার সাঁতার জানতেন না বলেও জানান তার ভাই।
কাউসারের সহকর্মী মিজানুর রহমান জানান, গোসলের সময় তাদের আরেক সহকর্মী সাগর ইসলাম স্রোতের টানে ভেসে যাচ্ছিলেন। তাকে বাঁচানোর জন্য কাউসারসহ কয়েকজন এগিয়ে যান। একপর্যায়ে উদ্ধারকারীরাও প্রবল স্রোতে পড়ে যান। স্থানীয়দের সহায়তায় সাগরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হলেও কাউসার পানিতে তলিয়ে যান।
বাদলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নঈমুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে মঙ্গলবারই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় ওইদিন সন্ধ্যা নামার পর অভিযান স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে বুধবার সকালে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করলে দুপুর ১২টার দিকে বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে কাউসারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।