লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. রোকন উদ্দিন বাবুলের জন্য আদিতমারী উপজেলা পরিষদে নির্মিত ‘পরিদর্শন কক্ষ’ সংস্কার ও সুসজ্জিতকরণে ১৬ লাখ টাকা ব্যয় নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন বলছে, এই ব্যয় সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।
জানা গেছে, প্রতিটি সংসদ সদস্যের জন্য স্থানীয় উপজেলা পরিষদে একটি পরিদর্শন কক্ষ সংস্কার ও আসবাবপত্র কেনার জন্য প্রাথমিক বরাদ্দ হিসেবে ৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে
গত সোমবার (২০ জুলাই) আদিতমারী উপজেলা পরিষদের পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় সংস্কারকৃত পরিদর্শন কক্ষটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল। সেখানে তিনটি কক্ষজুড়ে আধুনিক সাজসজ্জা, এসি এবং উচ্চমানের আসবাবপত্র স্থাপন করা হয়, যার মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা।
অতিরিক্ত খরচের বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল হক বলেন, মাত্র ৬ লাখ টাকা দিয়ে তিনটি কক্ষের সংস্কার ও মানসম্মত সাজসজ্জা করা সম্ভব হচ্ছিল না। সংসদ সদস্যের চাহিদা ও অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী এডিবি থেকে ৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ নিয়ে কাজ পরিচালনা করা হয়েছে। এসি ও মানসম্মত আসবাবপত্রের কারণে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি বিধি মেনেই করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস জানান, তিনি যোগদানের পূর্বেই প্রকল্পটি অনুমোদিত ও গৃহীত হয়েছে। তৎকালীন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এর কারিগরি বিষয়াদি বলতে পারবেন।
এদিকে প্রকাশিত কিছু সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সহকারী রাজ্জাকুর ইসলাম (রাজ্জাক) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুসৃত নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের পরিদর্শন কক্ষের উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ এডিপি বা রাজস্ব খাত থেকে করার স্পষ্ট আইনি সুযোগ রয়েছে। ফলে এডিপি থেকে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ সম্পূর্ণ প্রজ্ঞাপন ও বিধি অনুযায়ী হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, সংবাদে প্রকাশিত ছবিটি আদিতমারী উপজেলা পরিষদের মূল পরিদর্শন কক্ষের নয়, বরং সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত বাসভবনের। এ ছাড়া স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত বাজাদরে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আসবাবপত্র কেনা হয়েছে। সরকারি কোনো অনিয়ম বা আত্মসাতের ঘটনা এখানে ঘটেনি।
এ বিষয়ে এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, সরকারি বরাদ্দে কাঙ্ক্ষিত মানের আধুনিকায়ন করা সম্ভব হচ্ছিল না বিধায় সরকারি নিয়মনীতি মেনেই এডিপি ফান্ড ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও কক্ষটি সুন্দর করতে সহযোগিতা করেছেন। সরকারি বাজেটের বাইরে কোনো নিয়মবহির্ভূত অর্থ ব্যয় করা হয়নি।