ফেনীর ছাগলনাইয়ায় সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা ও সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং ছাগলনাইয়া পৌরসভা। অভিযানে সওজের জায়গা দখল করে নির্মিত উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়সহ দুই শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ছাগলনাইয়া পৌরসভা এলাকাসহ পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের সরকারি জায়গা, ড্রেন ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। এতে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হয়ে পথচারী ও যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছিল। পাশাপাশি এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে সড়কের উন্নয়নকাজ ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে উচ্ছেদ অভিযানের উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর থেকে জমদ্দার বাজার এলাকায় প্রথম দফায় অভিযান চালানো হয়। ওই সময় দুই শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২২ জুলাই) সকালে পৌর শহরে সওজের জায়গায় গড়ে ওঠা পরিত্যক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয় এবং সেটি ভেঙে ফেলা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন ছাগলনাইয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুক। এ সময় সওজ ফেনীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাহতাব উদ্দিন রুমি, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মামুন, ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহেরের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্য এবং পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা তাজেল হোসেন হাওলাদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানের বিষয়ে ফেনী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল সওজের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। সড়ক সম্প্রসারণ কাজ সহজ করা এবং সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। সওজের জায়গায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থাকায় সেটিও অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুক মুক্তকণ্ঠকে জানান, যানজট কমানো ও সড়ক প্রশস্ত করার লক্ষ্যেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। এর ফলে যানজট কমবে এবং মানুষের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

ছাগলনাইয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা তাজেল হোসেন হাওলাদার জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় গত রোববার সন্ধ্যায় পুরো বাজার এলাকায় মাইকিং করে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। এরপরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তবে প্রশাসনের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। অগ্রিম কোনো নোটিশ না দিয়েই উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ফল ব্যবসায়ী আবদুস সালাম ও সবজি ব্যবসায়ী আবু তাহের।

তারা জানান, আমরা নিয়মিত পৌরসভার লাইসেন্স ফি ও ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করে আসছিলাম। অথচ কোনো লিখিত নোটিশ না দিয়েই মালামালসহ আমাদের দোকানঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে।