শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় একটি বসতবাড়ির রান্নাঘরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই বাড়ির গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়েছেন। রান্নাঘরটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পাশের দুটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পুলিশ বলছে, ওই রান্নাঘরের একটি বালতিতে ককটেল মজুত করে রাখা হয়েছিল। আজ শনিবার বেলা দেড়টার দিকে ককটেলগুলো একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। আহত রোকেয়া বেগম উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুরিয়া চরকান্দি এলাকার ফারুক ছৈয়ালের স্ত্রী।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণের সময় রোকেয়া বেগম রান্নাঘরে রান্না করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে একসঙ্গে ককটেলগুলো বিস্ফোরিত হলে রান্নাঘরের ভেতরে আটকা পড়েন রোকেয়া। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তানভীর আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, দুপুরের পর এক নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর ক্ষত দেখে মনে হয়েছে, কোনো বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে জাজিরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ যাওয়ার আগেই ফারুক ছৈয়াল ও তাঁর পরিবারের পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান। ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরণের পরের কিছু আলামত জব্দ করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

এ তথ্য নিশ্চিত করে জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আজ দুপুরে প্রথমে খবর পাই, এক নারী রান্না করার সময় গ্যাস বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি, সেখানে মজুত করে রাখা ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে যোগাযোগ করে এ ঘটনায় আর কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে ককটেলগুলো মজুত করেছিলেন, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।’