নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের ভরতেরকান্দি গ্রামে গতকাল শুক্রবার ভোরে এক ছেলে নিজের ঘুমন্ত বাবাকে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। জামিন না করানোয় পরিবারের প্রতি ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।

নিহত আব্দুল বাছেদ মিয়া (৬০) কবিরাজি ওষুধ বিক্রি করতেন। অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরী নিহতের ছোট ছেলে। গাজীপুরের টঙ্গী থানার একটি হত্যা মামলায় প্রায় ১০ বছর জেল খাটার পর ছয় মাস আগে শাকিল জামিনে বের হয়ে বাড়ি ফেরেন। তাঁকে জামিনে ছাড়াতে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাবার প্রতি তীব্র ক্ষোভ ছিল শাকিলের। এ নিয়ে প্রায়ই পারিবারিক কলহ চলত।

বাড়িতে আসার পর থেকে শাকিল বাবার সাথেই ঘুমাতেন। শুক্রবার ভোরে ঘুমন্ত অবস্থাতেই শাকিল বাবার পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। বাবা চিৎকার করলে ঘরের কুড়াল ও বঁটি দিয়েও আঘাত চালিয়ে তিনি হত্যা করেন। এ সময় মা সখিনা বেগম এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত ও মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। ভাই নূর নবীকেও আহত করা হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে নূর নবী রাশেদ বাদী হয়ে শিবপুর মডেল থানায় মামলা করেন। শিবপুর থানার উপপরিদর্শক কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে আব্দুল বাছেদ মিয়ার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

শনিবার বিকেলে শিবপুর থানায় সংবাদ সম্মেলন করেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশিকুর রহমান। তিনি জানান, শাকিল গাজীপুরের পুবাইল থানা এলাকার হায়দরাবাদ গ্রামে লুকিয়ে ছিলেন। গতকাল রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওই এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।