বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবে কি না, স্পষ্ট হয়নি
বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শেষ পর্যন্ত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আজ মঙ্গলবার শপথ নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় কাটেনি।
বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শেষ পর্যন্ত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আজ মঙ্গলবার শপথ নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় কাটেনি।
ত্রয়োদশ সংসদের বিরোধী দলের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে এবং সরকারি দলের শপথ না নেওয়া নিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের যাত্রা শুরু হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থেকে বিএনপি জনগণের প্রত্যক্ষ রায়কে অগ্রাহ্য করেছে।
রাষ্ট্রপতির কোনো আদেশ যদি তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত শপথের বাইরে নতুন কোনো শপথ গ্রহণে বাধ্য করার চেষ্টা করে, তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়াবে।
সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে কিছুটা সংশয় আছে। বিএনপি মনে করছে, বিদ্যমান সংবিধানে যা আছে, সেটা অনুসরণ করাই যৌক্তিক।
সংবিধান সংস্কারের কথা বিএনপি কখনোই বলেনি, বরং তারা সংবিধান সংশোধনের পক্ষে বলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আমরা, সংবিধান সংস্কার কমিশনের দুই সদস্য শরীফ ভূঁইয়া ও ফিরোজ আহমেদ, দুটি বিষয়ে কমিশন বরাবর দুটো লিখিত মতামত দিয়েছিলাম। প্রথমটি দেওয়া হয়েছিল ২৩ নভেম্বর ২০২৪। এটি ছিল রাষ্ট্রপতির পদকে শক্তিশালী করা প্রসঙ্গে। অন্যটি দেওয়া হয়েছিল ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪। এটি সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ ও রাষ্ট্রধর্ম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। এই দুটি লিখিত মতামতে আমরা আমাদের যৌথ ভাবনা প্রকাশ করেছিলাম, যা কমিশনের বাকি সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের মতামত থেকে ভিন্ন ছিল।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও এই পরিষদ গঠিত হয়নি।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে বিষয়ে সংস্কার নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছিল, তা ছিল সাংবিধানিক সংস্কার।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বিএনপির ইচ্ছামতো সংবিধান সংশোধনকে নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, গণভোট হয়েছে সংস্কারের জন্য, সংশোধনের জন্য নয়। চিফ হুইপসহ বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আযাদ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন বারবার সংস্কার আন্দোলনের ঢেউ সত্ত্বেও এই দেশ গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা ও কর্তৃত্ববাদী প্রত্যাবর্তনের এক চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে।