সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে গতানুগতিক উপায়ে সংবিধান সংশোধনের পথে হাঁটার মাধ্যমে সরকার রাজনৈতিক প্রতারণার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে বলে দাবি করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। মঙ্গলবার দলটির সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দল এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন তাদের প্রতিক্রিয়া জানায়।
বিবৃতিতে দলটি উল্লেখ করেছে, জুলাই অভ্যুত্থান ও গণভোটের আকাঙ্ক্ষা দেশে মৌলিক সংবিধান সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে। তারা বলেন, "অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সংবিধান সংস্কারের সেই পথ পরিত্যাগ করে গতানুগতিক সংশোধনের পথে হেঁটে সরকার রাজনৈতিক প্রতারণার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।"
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা মনে করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। বিবৃতিতে বলা হয়, "বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি রাজনৈতিক প্রতারণার একটি নতুন ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ইতিপূর্বে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে বিভিন্ন অনিয়মের নজির থাকলেও গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের মতো জনগণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানানোর এমন নজির নেই। সরকার এবার সেই অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টান্তই স্থাপন করেছে।"
জুলাই সনদ নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির বর্তমান অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে নেতারা বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ এখন সংসদে দাঁড়িয়ে দাবি করছেন যে, এসব প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের আগে কৌশল হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবায়নের জন্য নয়। এই বিষয়ে তারা বলেন, "এ ধরনের দম্ভ ও প্রতারণার প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে একটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে নামিয়ে আনবে, যার চূড়ান্ত প্রতিফল জাতিকে স্থায়ী ও অপরিমেয় ক্ষয়ক্ষতির মুখে ঠেলে দেবে।"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারি দলের নেতাদের দেওয়া যুক্তিগুলো বিদ্যমান সংসদের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং "পরাজিত মাফিয়াদের বৈধতার দাবিকে পরোক্ষভাবে প্রতিষ্ঠিত করছে।"
এই ‘আত্মঘাতী’ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন দাবি করেছে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও গণভোটের ম্যান্ডেট এবং ১৮০ দিনের সময়সীমার বাধ্যবাধকতা মেনে অবিলম্বে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে। অন্যথায় দেশে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বা আইনি সংকট তৈরি হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির নেতারা।