সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল: বিপৎসীমার ওপরে সুরমা ও কুশিয়ারা
সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠে এসেছে, যার ফলে বিভিন্ন সড়ক প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে।
সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠে এসেছে, যার ফলে বিভিন্ন সড়ক প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রামে পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা কম। তবে ফেনী, সিলেট ও উত্তরাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের একটি সেতু ধসে পড়েছে। এতে দুই জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কয়েক দিন ধরে পানিবন্দী বাঁশখালী উপজেলার বহু এলাকা। পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গেলেও পর্যাপ্ত ত্রাণ, শুকনা খাবার ও সুপেয় পানি নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ এসেছে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে পৃথক দুটি ঘটনায় পাহাড়ি ঢলে ভেসে গিয়ে মোহাম্মদ আশিক (৭) ও মোহাম্মদ মিরাজ (৩) নামের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জের অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আজ শুক্রবার ভোর থেকে বিভিন্ন এলাকায় আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে।
রাঙামাটির সাজেকে পাহাড়ি ঢলে সড়ক প্লাবিত হয়ে আটকে পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে ১৫০ জনকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চন্দনাইশের পাঠানীপুল এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে মুরাদপুর এলাকায় রেললাইন ডুবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সাজেকে প্রায় ৬০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। রিসোর্ট মালিকদের সংগঠন বলছে, পানির কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিরাপদে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে।
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদের পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ডলু, টঙ্কাবতী, মাইনী ও চেঙ্গী নদীর পানিও বেড়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে কয়েকটি উপজেলার বহু মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
চার দিন ধরে একটানা অতিভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাঁচ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।