বিভিন্ন স্থানে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় এবং পাহাড়ধস ও গাছ উপড়ে পড়ায় সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে ওই রেলপথে। ভারী বৃষ্টি আজ বুধবারও অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন নদী ও খালের পানি বেড়েছে। কিছু এলাকা থেকে ঢলের পানি নেমে গেলেও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে দুই দিন ধরে পানিবন্দী রয়েছেন মানুষজন।

.

চার দিন ধরে একটানা অতিভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাঁচ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় এবং পাহাড়ধস ও গাছ উপড়ে পড়ায় সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে ওই রেলপথে।

ভারী বৃষ্টি আজ বুধবারও অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন নদী ও খালের পানি বেড়েছে। কিছু এলাকা থেকে ঢলের পানি নেমে গেলেও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে দুই দিন ধরে পানিবন্দী রয়েছেন মানুষজন। বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, খাগড়াছড়ি শহর, লংগদু উপজেলা, বান্দরবান জেলা শহর, লামা উপজেলা এবং কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। অনেক স্থানে নেই বিদ্যুৎ–সংযোগ। ঢলের পানিতে ভেসে গেছে খামারের মাছ, ডুবেছে ফসলের খেত। তবে কোথাও থেকে সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়নি।

.

চট্টগ্রামের ৮ উপজেলা প্লাবিত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে গেছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন মানুষজন। পানিবন্দী থাকায় অনেক বাড়িতে রান্না হয়নি। বিভিন্ন এলাকায় নেই বিদ্যুৎ–সংযোগও।

সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের অন্তত তিনটি গ্রামের নিচু এলাকার শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার সড়ক ডুবে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় চলাচলের একটি সড়ক ভেঙে খাদে পড়েছে। ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জঙ্গল ভাটিয়ারী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫২টি পরিবারের মধ্যে ১২০টির ঘরে পানি ঢুকেছে। উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের লতিফপুর, ভাটিয়ারী ইউনিয়নের রেলস্টেশন এলাকা, সোনাইছড়ি ইউনিয়নের অন্তত তিনটি গ্রাম, কুমিরা ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম, পৌরসভার সব কটি ওয়ার্ড, বারৈয়ারঢালা, মুরাদপুর ও সৈয়দপুর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

.

টানা ভারী বর্ষণের ফলে রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির নানা স্থান প্লাবিত হয়েছে। চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি সড়কের অক্সিজেন থেকে হাটহাজারীর বড় দিঘির পাড় এবং অক্সিজেন-কুইয়াশ সড়ক ডুবে গেছে। এতে বড় যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে। আর ছোট যানবাহন চলছে না। এ ছাড়া রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার বাসিন্দা। গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার কিছুটা নিচ দিয়ে এবং ডলু ও টঙ্কাবতীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। গতকাল সকাল থেকে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নতুন করে আরও লোকালয় প্লাবিত হয়ে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিন নদীর পানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। সাতকানিয়া উপজেলার ধর্মপুর, বাজালিয়া ও চরতী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে সাঙ্গুর পানি প্রবেশ করেছে। লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা ও আধুনগর ইউনিয়নের কিছু এলাকায় টঙ্কাবতী ও ডলু নদের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এসব এলাকায় কৃষকদের ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

.
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে গেছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন মানুষজন। পানিবন্দী থাকায় অনেক বাড়িতে রান্না হয়নি। বিভিন্ন এলাকায় নেই বিদ্যুৎ–সংযোগও।
.

পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার জনসাধারণকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার থেকে টানা বৃষ্টির পর পাহাড়ি ঢল নেমে ও জোয়ারের পানিতে বাঁশখালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে এসব এলাকায় পুকুর, জলাশয় ও ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।

.

স্থানীয় লোকজন জানান, পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে বাঁশখালী পৌর সদর, শীলকূপ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে বৃষ্টির পাশাপাশি জোয়ারের পানিতে উপজেলার ছনুয়া, নাপোড়া, চাম্বল, শেখেরখীল, খানখানাবাদ ও পুকুরিয়া ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। এসব এলাকার পুকুর, জলাশয় ও ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। রাস্তাঘাট পানির নিচে থাকায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। টানা বৃষ্টি ও বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের প্রভাবে খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসুল ও প্রেমাশিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দুর্যোগের কারণে বাঁশখালীজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার গন্ডামারা, সরল, ছনুয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন লোকজন।

.

চকরিয়ায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী

কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার অন্তত ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। টানা ভারী বর্ষণের ফলে মাতামুহুরী নদীর উজান থেকে নেমে আসায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, অন্তত ১১টি গ্রামীণ সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বীজতলা, সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বসতঘরের উঠানে কোমরসমান পানি। ফলে লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির পর শিক্ষার্থীরা হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে বাড়ি ফিরছে।

আজ দুপুরে কাকারা ইউনিয়নে পাহাড়ধসে পড়ে দুটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে হতাহত হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যদ্রব্য–সহায়তা দেওয়া হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, বরইতলী, হারবাং, ডুলাহাজারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের অন্তত ৬ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী, বদরখালী, ঢেমুশিয়া, সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, বিএম চর ইউনিয়নে অন্তত ৩ হাজার ৭০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী পরিবারগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

এদিকে পেকুয়া উপজেলার টৈটং, রাজাখালী, বারবাকিয়া, শিলখালী ও পেকুয়া সদর ইউনিয়ন এবং পেকুয়া পৌরসভার অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ বলেন, পেকুয়া পৌরসভার কহলখালী খাল থেকে ময়লা–আবর্জনা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। এখন পানি দ্রুত নেমে যাবে। পেকুয়া সদর ও পৌরসভার কিছু অংশে বেড়িবাঁধ মেরামত ও কিছু অংশে বেড়িবাঁধ কেটে দিয়ে পানি বের করা হচ্ছে।

.

ডুবেছে বান্দরবানের নিচু এলাকা

বান্দরবানে টানা চার দিনের বৃষ্টিতে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ে ঢলে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা ডুবে গেছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় আলীকদম ও থানচি, রোয়াংছড়ি উপজেলায় সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। জেলা শহরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

জেলা ও উপজেলা দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলা শহর ও লামা উপজেলা শহরে নিম্নাঞ্চলগুলো ডুবে গেছে। জেলা শহরের আর্মিপাড়া, ক্যচিংঘাটা, বালাঘাটা আম বাগানপাড়া, কাসেমপাড়া, হাফেজঘোনার ও ইসলামপুর এলাকার কিছু অংশ ডুবে গেছে। সেখানকার কিছু পরিবার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বিলকিস বেগম উচ্চবিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। লামায় মাতামুহুরীর তীরঘেঁষা এলাকার কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে বিদ্যুৎ না থাকায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আলীকদম ও থানচিতে বিদ্যুৎ নেই।

.
কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার অন্তত ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। টানা ভারী বর্ষণের ফলে মাতামুহুরী নদীর উজান থেকে নেমে আসায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, অন্তত ১১টি গ্রামীণ সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বীজতলা, সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বসতঘরের উঠানে কোমরসমান পানি। ফলে লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
.

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন জানিয়েছেন, প্রবল বর্ষণে অনেক জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গেছে। এ জন্য রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আজ সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে।

আজ সকাল থেকে উপজেলার সঙ্গে লামা ও চকরিয়ার সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। একইভাবে বান্দরবান-চিম্বুক-থানচি সড়কের বলীপাড়া অংশে ও বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের হদাবাবুরঘোনার অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রুমা উপজেলায় একটি সেতু পানিতে ডুবে গেছে। এ ছাড়া রুমা-বগালেক-কেওক্রাডং সড়কের পেপেঁবাগান এলাকায় (বগালেকের পর) পাহাড়ধস হয়েছে। বগালেক পর্যন্ত যানবাহন চলাচল করা গেলেও কেওক্রাডং পাহাড়ে যাওয়া যাচ্ছে না।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাসান জানিয়েছেন, নিম্নাঞ্চলের কিছু অংশে পানি উঠলেও জেলার সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। উপজেলার কোনো কোনো সড়কে পানি উঠলেও বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর সেগুলোতে পানি সরে যাচ্ছে। দ্রুত যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হবে।

.

খাগড়াছড়িতে তলিয়ে গেছে সড়ক, নিচু এলাকা

গতকাল সকাল থেকে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ওই সড়কেও সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে জেলার চেঙ্গী, মাইনী নদীসহ বিভিন্ন খাল-ছড়ার পানি দ্রুত বাড়ছে। জেলা সদর, মহালছড়ি ও দীঘিনালার বিভিন্ন নিচু এলাকায় ইতিমধ্যে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বসতবাড়ি ও সড়ক প্লাবিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।

আজ সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালার স্টিল ব্রিজ, বড় মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুলতলা এলাকায় গিয়ে সড়কে কোমরসমান পানি দেখা গেছে। দীঘিনালা-লংগদু-সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাজেকের মাচালং ও বাঘাইহাট এলাকায় নৌকা চলাচল করতে দেখা গেছে।

.

টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। মহালছড়ি-গুইমারা সড়কের সিন্দুকছড়ি এলাকায় ছোট আকারের পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। জেলা প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ করেছে। জেলা শহরের শালবন, মোহাম্মদপুর, সবুজবাগ, কুমিল্লা টিলা, কলাবাগান, নুনছড়িবাজার, মোল্লাপাড়া, কৈবল্যপিঠ ও আঠারো পরিবার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী মানুষকে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ মোট ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, রাউজান, লোহাগাড়া, আনোয়ারা এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজারের চকরিয়া প্রতিনিধি)