ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকেলে ইউনিয়নের সুতালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সম্মেলনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কদমী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম মিয়া এবং উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কাটাগর গ্রামের বাসিন্দা মো. বিশু মোল্লা। বিকেল তিনটায় সম্মেলন শুরুর প্রাক্কালে এই দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত পাঁচটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং উভয় পক্ষের কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন। পরে জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে সম্মেলন কার্যক্রম শুরু হয়।

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. বিশু মোল্লা বলেন, ‘সম্মেলন বিদ্যালয়ের কক্ষে হয়েছে। বাইরে পোলাপান মারামারি করেছে। কালাম মিয়া অন্য ইউনিয়ন থেকে তাঁর সমর্থকদের এনেছিল। তারা এই এলাকার লোকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা থেকে এ মারামারি হয়েছে।’

অন্যদিকে সংঘর্ষের বিষয়টি অস্বীকার করে আবুল কালাম মিয়া বলেন, ‘যাঁরা ঝামেলা করেছে, তাঁরা বাজে ছেলে। সম্মেলন সম্পূর্ণ সফলভাবে শেষ হয়েছে।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা জানান, সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে দুই সভাপতি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হাতাহাতি হয়। খুব বড় ধরনের কিছু না। পরে শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা।

সম্মেলন শেষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। তবে পদপ্রত্যাশীদের বক্তব্য শুনেছেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, বোয়ালমারীর একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের কমিটি একসঙ্গে ঘোষণা করবে উপজেলা বিএনপি।