কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসা চার ভারতীয় নাগরিক এক বছর পর নিজ দেশে ফিরে গেছেন। আজ বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে তাঁদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হস্তান্তর হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার ধিতরা গ্রামের সুইটি বিবি, তাঁর দুই ছেলে কুরবান শেখ (১৭) ও ইমাম দেওয়ান (৬) এবং পাইকোর গ্রামের দানিশ শেখ।
সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই জামিরুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে চার ভারতীয় নাগরিককে ভারতে পাঠানো হয়েছে। এ সময় রাজশাহীতে ভারতের সহকারী হাইকমিশনের দুই প্রতিনিধি, বিজিবি ও বিএসএফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমঝোতার ভিত্তিতে ভারতীয় চার নাগরিককে হস্তান্তর করা হয়েছে।"
ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২০ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আলীনগর এলাকা থেকে ছয় ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দুই শিশুকে বাদ দিয়ে চারজনের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে পাসপোর্ট আইনে মামলা করা হয়। সে সময় তাঁরা দাবি করেছিলেন, দিল্লি পুলিশ তাঁদের বাংলাদেশি মনে করে আটক করার পর বিএসএফ কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়।
পরবর্তীতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বিবি ও তাঁর শিশুসন্তানকে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ভারতে ফেরত পাঠানো হয়। তবে মামলা চলমান থাকায় দানিশ শেখসহ বাকি চারজন সে সময় ফিরতে পারেননি। দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ সরকার ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে তাঁদের ভারতে ফেরার অনুমতি প্রদান করে। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তাঁরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নয়াগোলা গাইনপাড়ায় স্থানীয় এক বাসিন্দার জিম্মায় ছিলেন। গত সাত মাস স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা করেন।






