গুমের ঘটনায় ঊর্ধ্বতনদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই
আওয়ামী লীগ শাসনামলের গুমের ঘটনা নিয়ে অনেক কর্মকর্তা তাঁদের অগোচরে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করলেও গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন বলেছে, এসব ঘটনায় দায়িত্বশীলদের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
আওয়ামী লীগ শাসনামলের গুমের ঘটনা নিয়ে অনেক কর্মকর্তা তাঁদের অগোচরে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করলেও গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন বলেছে, এসব ঘটনায় দায়িত্বশীলদের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া অনুমোদন ঘিরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে টিআইবি। তাদের বক্তব্য, স্বাধীনতা-কার্যকারিতা ও দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে কিছু বিধান বড় প্রতিবন্ধকতার আশঙ্কা তৈরি করছে, এবং গুম প্রতিরোধ আইনের কাঠামোয় দায়মুক্তি–সহায়ক ধারার কথাও তুলেছে সংস্থাটি।
যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মশিউর রহমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে শেখ হাসিনা, শেখ মামুন খালেদ, বেনজীর আহমেদসহ অনেকের বিরুদ্ধে গুম-নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। ২০১৩ ও ২০১৫ সালে তাঁকে গুম করে ছয় মাস নির্যাতন করা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি। এই ঘটনায় তিনি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিকিৎসক আশিক উল আকবর গুম ও নির্যাতনের লোমহর্ষক জবানবন্দি দিয়েছেন; মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৭ জন আসামি।
বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে মিরাজ শেখকে গুম করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশে গুমের তদন্ত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়ার কথা থাকলেও প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়ার বিধান থাকছে—এ নিয়ে মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগও তুলে ধরা হয়েছে।
গুম, ক্রসফায়ার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৩ হাজার ২৯৯ জন নিহতের বিচার দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনটি আবেদন জমা দিয়েছে বিএনপি। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামকে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছে দলটি। আগের চিফ প্রসিকিউটরের অবহেলার অভিযোগ তুলেছে।
মুফতি শফিকুল ইসলাম গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত র্যাব সদস্য ও তাঁদের ‘হাইকমান্ডের’ বিচার চান।
ইকবাল করিম ভূঁইয়া জেরায় বলেন, ‘আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে কতজন গুম হয়েছিল, তা বলতে পারব না।’
গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে গুমের ঘটনা বেড়ে যেত, বেছে বেছে লক্ষ্যবন্তু করা হতো বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী, সমর্থকদের।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ–২০২৬ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।