
কৃষি খাতে ভর্তুকির পুনর্বিন্যাস জরুরি
কৃষি খাত দীর্ঘদিন ধরেই অগ্রাধিকার পেয়ে আসছে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার প্রতিবছর কৃষিতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে চলেছে।

কৃষি খাত দীর্ঘদিন ধরেই অগ্রাধিকার পেয়ে আসছে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার প্রতিবছর কৃষিতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে চলেছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ব্যয় ধান উৎপাদনের দিকে অতিমাত্রায় ঝুঁকে রয়েছে, যা কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানি ও সারে ভর্তুকি বেড়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য চাপ তৈরি করছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃষি ভর্তুকির কোটি কোটি ইউরো সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবার পকেট করছে। রোমানিয়া, স্পেন ও ইতালির বিশাল খামারে উৎপাদিত ফসল মধ্যপ্রাচ্যে চলে যাচ্ছে। এ নিয়ে অধিকারকর্মীদের উদ্বেগ।

নির্বাচনের পরপর বর্তমান সরকার আগামী অন্তত দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর কথা বলেছিল।

বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণে দেশেও সরকার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ বেড়েছে। খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, সব বাড়তি খরচ ভর্তুকি নয়, সঠিক মূল্য নির্ধারণ ও সংস্কারের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা সম্ভব। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ দরকার।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ সত্ত্বেও এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখায় সরকার এক মাসে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম ৯৮% বেড়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্বিগুণেরও বেশি হলেও সরকার এপ্রিলে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। দাম না বাড়ানোর ফলে সরকারকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ৮০টি দেশ জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশ সরকার এ পরিকল্পনা করেনি।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বাজেটের প্রশংসা করে বলেন, এটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতিফলন।

কৃষকেরা রাস্তায় নেমেছেন, বিদ্যুৎ ভর্তুকি নিয়ে বিতর্ক উঠেছে এবং সামনে এসে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের বিশাল ঋণের বোঝা। এসব দেখে অনেকেই সন্দিহান—সত্যিই কি প্রতিশ্রুতির ভার বহন করতে পারবেন থালাপতি বিজয়?