জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে মাসিক তিন লাখ টাকা নগদ ভর্তুকির দাবি জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রইছ উদদীন ও কোষাধ্যক্ষ সাবিনা শরমীনের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদন ও প্রস্তাব জমা দিয়েছে সংগঠনটি। আবেদন জমাদানের সময় জকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ ও কার্যনির্বাহী সদস্য ফাতেমা আক্তার অওরিন উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত আবেদনে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াটি প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থীর খাবারের চাহিদা পূরণ করছে। তবে চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতিতে মানসম্মত খাবার সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে তিন লাখ টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন। এই অর্থ শুধু চাল, ডাল ও ভোজ্যতেল কেনার জন্য ব্যয় করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জকসু জানায়, এই ভর্তুকি কার্যকর হলে প্রতি সপ্তাহে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত মূল্যে ভর্তুকিযুক্ত খাবার পরিবেশন করা সম্ভব হবে। এতে শিক্ষার্থীরা বাজারমূল্যের তুলনায় কম খরচে পুষ্টিকর খাবার পাবেন।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় প্রতিদিন দুপুরের খাবারের জন্য অন্তত ৫০ কেজি চালের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া বিরিয়ানি ও খিচুড়িসহ অন্যান্য খাবার প্রস্তুত করতে অতিরিক্ত চাল ও ডালের প্রয়োজন পড়ে। সব মিলিয়ে মাসে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কেজি চালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনার জন্য এই ভর্তুকির কথা বলা হয়েছে।

জকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প মূল্যে পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। ক্যাফেটেরিয়ায় ভর্তুকি চালু হলে শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমবে, যা তাঁদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই যৌক্তিক দাবিটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।’

ভর্তুকির অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি তদারকি কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছে জকসু। এই কমিটি ক্রয় কার্যক্রম ও রসিদ সংরক্ষণসহ নিয়মিত ব্যয়ের হিসাব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাখিল করবে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এই প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে সংগঠনটি।