কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হারুন-অর-রশীদ বলেছেন, কিডনি প্রতিস্থাপনের উচ্চ ব্যয় এবং পরবর্তী সময়ে নিয়মিত জীবন রক্ষাকারী ওষুধের চড়া মূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে এ চিকিৎসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। সংকট মোকাবিলায় তিনি ‘পেয়ার্ড ডোনেশন’ বা দুটি পরিবারের মধ্যে কিডনি অদলবদল এবং মস্তিষ্ক মৃত (ব্রেন ডেড) ব্যক্তির অঙ্গ প্রতিস্থাপনব্যবস্থা সহজ করতে বিশেষ জোর দেন।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন হারুন-অর-রশীদ। ‘সেভিং লাইভস ইন বাংলাদেশ: দ্য আর্জেন্ট নিড ফর ডিসিসিড অর্গান ডোনেশন’শীর্ষক এ আলোচনা অনুষ্ঠান ও মিডিয়া ব্রিফিং আয়োজন করে কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
.অনুষ্ঠানে হারুন-অর-রশীদ বলেন, পর্যাপ্ত অঙ্গ না থাকায় অনেকে অবৈধ উপায়ে অঙ্গ চোরাচালানের ফাঁদে পড়ছেন। এ সংকট কাটাতে সরকারের আর্থিক ও আইনি সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি সরকারের কাছে সুপারিশ করেন, সরকার যাতে কিডনি চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধে ভর্তুকি দেয় এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনি সহযোগিতা সহজলভ্য করে। অঙ্গদান নিয়ে সামাজিক ট্যাবু ভাঙতে দেশের গণমাধ্যমের প্রতিও আহ্বান জানান হারুন-অর-রশীদ।
অস্ট্রেলিয়ার ট্রান্সপ্ল্যানটেশন জার্নালসের প্রধান সম্পাদক জেরেমি চ্যাপম্যানের মতে, কিডনি জটিলতার শেষ পর্যায়ের অঙ্গ প্রতিস্থাপন সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা। তিনি বলেন, সফল প্রতিস্থাপনের জন্য শুধু হাসপাতাল নয়, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, দক্ষ চিকিৎসক, স্বচ্ছ আইন, জাতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা, জনসচেতনতা ও মানুষের আস্থা জরুরি।
.মৃত ব্যক্তির অঙ্গদানে উৎসাহিত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা জরুরি বলে উল্লেখ করেন রাফায়েল নানুম ফাউন্ডেশন ও রাফায়েল ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি ক্যুরি আন। তিনি বলেন, সঠিক তথ্য প্রচার করলে মানুষের ভুল ধারণা দূর হবে, আস্থা ও সামাজিক সমর্থন বাড়বে এবং অঙ্গদানকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব হবে।
ডায়ালাইসিসের চেয়ে অঙ্গ প্রতিস্থাপন বেশি আধুনিক ও যুগোপযোগী চিকিৎসা বলে উল্লেখ করেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের কিডনি বিভাগের অধ্যাপক ওয়াসিম মহসিনুল হক। তিনি আরও বলেন, যাঁরা অঙ্গ প্রতিস্থাপন করেন, তাঁরা তুলনামূলক ভালো ও সুস্থ থাকতে পারেন। কিন্তু আইনি জটিলতা ও কিডনি স্বল্পতার কারণে অনেকেই কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারেন না। তিনি কিডনি চিকিৎসায় সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাসচিব রুহুল আমিন, দি ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব কোরিয়ার ইমেরিটাস অধ্যাপক ইন সুং মুন, পপুলার মেডিকেল কলেজের কিডনি বিভাগের অধ্যাপক মহিবুর রহমান, কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টাইনি এফ রশীদ প্রমুখ।
.এর আগে রাজধানীর মিরপুরে দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে। সম্মেলনে মৃত ব্যক্তির অঙ্গদান এবং প্রতিস্থাপনব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ স্থায়ী মৃত্যু নির্ধারণ, অঙ্গ সংগ্রহ, দাতা সমন্বয়, অঙ্গদানের নৈতিক আর আইনগত বিষয়াবলি এবং হাসপাতালভিত্তিক অঙ্গদানব্যবস্থা উন্নয়ন বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা তাঁদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন।
.কিডনির রোগ এখন নীরব মহামারি, প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি





