প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় এই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছিল। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে যেভাবে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন, তাতে সফরের অনুকূল পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে বলে মনে করছে ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই পোস্টে বলা হয়েছে, “আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীকে দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। আমরা তাদের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছি।”

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, “আমরা সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্য সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে যাব।”

উল্লেখ্য, আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরবর্তীতে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সফর নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়।