দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে আধুনিকায়ন এবং বায়োসিমিলার ও ভ্যাকসিন উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে দ্রুত একটি ‘জাতীয় কৌশল’ প্রণয়ন করা হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই খাতের প্রসার ও উচ্চমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করা হবে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বায়োটিইডি সোমরু বায়োসায়েন্সের আয়োজনে এবং জেনএক্স-এর সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতকে কেবল স্বাস্থ্য সুরক্ষার সীমাবদ্ধতায় না দেখার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে। এখন সময় এসেছে এটিকে বায়োসিমিলার, ভ্যাকসিন ও বায়োটেকনোলজির মতো উচ্চপর্যায়ের ধাপে রূপান্তর করার। এটিকে কেবল স্বাস্থ্য সুরক্ষার দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না, বরং জাতীয় অর্থনীতির একটি বড় চালিকাশক্তি বা বায়ো-ইকোনমির লেন্স দিয়ে দেখতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক মান ও স্কেল বজায় রেখে বায়োফার্মাসিউটিক্যাল ও ভ্যাকসিন গবেষণার প্রাথমিক অবকাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই রূপান্তরের জন্য প্রায় ১০ হাজার প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন হবে। সরকার সাধারণ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও গবেষণাকেন্দ্রিক উচ্চপর্যায়ের (হাই-এন্ড) কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এছাড়া কনট্র্যাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিআরও) গঠন এবং বায়োসিমিলার বিষয়ে নিজস্ব গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানোর কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। শিল্পোদ্যোক্তা ও গবেষকদের সুবিধার্থে সরকারি উদ্যোগে ‘শেয়ার্ড ফ্যাসিলিটিজ’ বা কেন্দ্রীয় ল্যাব সুবিধা তৈরির আশ্বাসও দেন তিনি।
তরুণ গবেষকদের সুযোগ প্রসঙ্গে ডা. মুহিত জানান, স্বাস্থ্য খাতের বাজেট থেকে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, মলিকুলার বায়োলজি ল্যাব স্থাপন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তরুণ গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা তহবিল (রিসার্চ ফান্ডিং) বাড়ানোর বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের সমন্বয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় কৌশলপত্র চূড়ান্ত করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল বাজারে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) প্রধান নির্বাহী ডা. তাহমিদ আহমেদ, বায়োটিইডির প্রধান নির্বাহী সওগাতুল ইসলাম, বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিএমআরসি) পরিচালক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেননূর, ডিজিডিএ পরিচালক নাঈম গোলডার, জেনেক্স হেলথের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মুনিয়া আমিন, সাদাফ সাজ, ইউনিমেড ইউনি হেলথের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দেক হোসাইন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক সোহেল রানা প্রমুখ।