সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমিজমা লিখে দেওয়ার চাপ এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামের এক বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত পুত্রবধূ এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হোসনা বেগম (৩৮), রুহুল আমিন (২২) ও নজরুল ইসলাম (২০)। তারা সবাই উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ আলীর একমাত্র ছেলে ইসমাইল হোসেন সৌদি আরবে বসবাস করেন। বাড়িতে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে থাকতেন পুত্রবধূ হোসনা বেগম এবং তাদের এক সন্তান। গত শনিবার সকালে হোসনা বেগম প্রচার করেন যে, মোহাম্মদ আলী ঘুমের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় লোকজন লাশ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তবে দুপুরে গ্রামের এক ব্যক্তি দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদারকে লাশের গলায় দাগ এবং মুখে রক্ত থাকার কথা জানান। ওসি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। লাশের সঙ্গে থানায় আসা পুত্রবধূ হোসনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন ওসি। একপর্যায়ে হোসনা হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং জানান যে, তিনিই খুনিদের ভাড়া করেছিলেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, জমি লিখে না দেওয়ায় ইসমাইল ও হোসনা বেগম মোহাম্মদ আলীর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এই বিরোধের কারণে মোহাম্মদ আলী আলাদা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন, যা ইসমাইলকে আরও বিরক্ত করে। এরপর হোসনা তার আত্মীয় রুহুলকে ডেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। রুহুল সৌদি আরবে থাকা ইসমাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ইসমাইল বাবাকে হত্যার সম্মতি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা পাঠান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও একই গ্রামের জিয়াউর রহমান ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। হোসনা বেগম তাদের জন্য ঘরের দরজা খুলে দেন। এরপর তারা একটি মই ব্যবহার করে মোহাম্মদ আলীর কক্ষে প্রবেশ করেন এবং ঘুমন্ত অবস্থায় তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পুরো প্রক্রিয়ায় হোসনা ওপর থেকে বাতি দেখিয়ে সহায়তা করেন। কাজ শেষে খুনিরা চলে গেলে হোসনা রাতে ঘুমিয়ে পড়েন এবং সকালে শ্বশুর মারা গেছেন বলে প্রচার করেন।
এই ঘটনায় মোহাম্মদ আলীর নাতনি আছমা বেগম বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, "গ্রেপ্তার হোসনা বেগমসহ তিনজন মোহাম্মদ আলীকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।" তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।