ফেনীর দাগনভূঞায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় সুরাইয়া আক্তার (১১) নামের এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরও সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আজ রোববার বিকেলে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সিলোনিয়া বাজার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ও আহতরা সবাই সিলোনিয়া হাইস্কুলের শিক্ষার্থী।

নিহত সুরাইয়া আক্তার দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের মোহাম্মদ হানিফের মেয়ে। সে সিলোনিয়া হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও স্কুল সূত্রে জানা গেছে, স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফেরার জন্য মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। বিকেল সোয়া চারটার দিকে ‘হ্যাপি ট্রান্সপোর্ট’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস সিলোনিয়া এলাকা অতিক্রম করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। এতে আট শিক্ষার্থী আহত হয়; যাদের মধ্যে চারজন বাসের ধাক্কায় এবং চারজন বাসের নিচে চাপা পড়ে আহত হয়।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত বাসটি থামিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। গুরুতর আহত সুরাইয়াকে ফেনীর মহিপাল স্টার লাইন স্পেশাল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্বজনেরা তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। ওই হাসপাতালেই আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত দুই শিক্ষার্থীকে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী রাইসার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও দুই শিক্ষার্থী দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে।

সিলোনিয়া হাইস্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী শ্রেয়া পাল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "স্কুল ছুটির পর তারা বাড়ি যাওয়ার জন্য সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ একটি বাস কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর উঠে যায়। তখন কয়েকজন শিক্ষার্থী বাসের নিচে চাপা পড়ে। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করেন।"

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বাসটি ভাঙচুর করে। এসময় তারা সিলোনিয়া এলাকায় পদচারী-সেতু নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে পুলিশ ও শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে যায়।

সিলোনিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন বলেন, "দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বাসটি আটক করে ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ করে। পরে পুলিশ ও শিক্ষকেরা তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেন।"

ফেনীর মহিপাল হাইওয়ে থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেন বলেন, "খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এর আগে দাগনভূঞা থানা-পুলিশ ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"